বিশেষ প্রতিবেদক
গত অক্টোবরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গাজায় প্রস্তাবিত ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, “অনেক দেশ” এই বাহিনীতে অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, “স্পষ্টতই, আপনি যখন এই বাহিনী তৈরি করবেন, তখন এমন লোকদের থাকতে হবে যারা ইসরায়েলের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়, অথবা এমন দেশ যাদের সাথে ইসরায়েলও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।”
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গত ১০ই জানুয়ারি ২০২৬-এ বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, তারা আইএসএফ-এ অংশগ্রহণে ‘নীতিগত আগ্রহ’ প্রকাশ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও ড. ইউনূসের বিশেষ দূত- মার্কিন নাগরিক খলিলুর রহমান রজার ওয়াশিংটনে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার জন্য যে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স বা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা করেছেন তার অংশ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। আর এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারাও ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এ বিষয়ে বাংলাদেশের সাথে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।
সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলিসন হুকার ও সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে এ আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। তবে মার্কিন প্রশাসনের দিক থেকে এসব বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে গাজা সংকট নিয়ে আরব দেশগুলো যখন মিশরে একত্রিত হয়েছিল—বিশেষ করে শার্ম আল-শেখ শান্তি সম্মেলনসহ বিভিন্ন আলোচনায়—সেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূস আমন্ত্রণ পাননি।
এই পটভূমিতে বাংলাদেশের এখনকার আগ্রহকে অনেকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন, প্রশ্ন উঠছে খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ কি আসলে মার্কো রুবিওর উল্লিখিত “ইসরায়েলের স্বাচ্ছন্দ্যের দেশ” হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে?
পাকিস্তানের মতো অপর মুসলিম দেশগুলো যখন আইএসএফ-এ আগ্রহ দেখিয়েছে (এবং রুবিও তাদের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন), তখন বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ কি শুধু আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় অবদান রাখার ইচ্ছা, নাকি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন ও ইসরায়েলের সঙ্গে পরোক্ষ সামঞ্জস্য স্থাপনের কৌশল?
ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার অধীনে গঠিত এই বাহিনীতে ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া, আজারবাইজান, পাকিস্তানসহ কয়েকটি মুসলিম দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের অংশগ্রহণ চূড়ান্ত হলে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার একটি বড় সুযোগ হতে পারে। এর ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি রাখার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ- কূটনৈতিক অঙ্গনে এমন গুঞ্জন রয়েছে।
তবে ঘরোয়া ও আঞ্চলিক পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত কতটা বিতর্কিত হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
ফিলিস্তিনি সংগ্রামের প্রতি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সংহতি ছিল বঙ্গবন্ধুর নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে, ফলে বাংলাদেশ আজও পাসপোর্টে লেখা থাকে “সকল দেশ, ইসরায়েল ব্যাতিত”। কিন্তু ইউনূস সরকারের তথাকথিত সংহতির নেপথ্যে রয়েছে ইসরায়েলের প্রতি আনুগত্য, যেখানে নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের প্রতি কোন সহমর্মিতা নেই।
