আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় বিসিবির গঠনমূলক সমালোচনা করেছিলেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানিয়েছিলেন যে, বিসিবির আয়ের সিংহভাগ (প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ) আসে আইসিসি থেকে। তাই যেকোনো আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যতের কথা ভাবা উচিত।
তামিমের এমন মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে বিসিবি পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম তাকে ‘পরীক্ষিত ভারতীয় দালাল’ বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণ করেছেন।
তামিম ইকবালের বক্তব্যের একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে নাজমুল ইসলাম লেখেন, “এইবার আরও একজন পরীক্ষিত ভারতীয় দালালের আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখলো।”
বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান পদে থাকা নাজমুল ইসলামের এই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের পর ক্রীড়া মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ক্রীড়া সম্পাদক আরিফুল ইসলাম রনি এই পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তিনি লিখেছেন:
“তামিম ইকবালের কথাগুলো আপনার পছন্দ না-ই হতে পারে, কিন্তু দেশের একজন সাবেক অধিনায়ককে নিয়ে পাড়ার মোড়ের চায়ের আড্ডার মতো এমন ভাষা অবিশ্বাস্য। অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের মতো কোনো দেশে ক্রিকেট কর্তা এমন করলে তাকে পদ হারাতে হতো। কিন্তু আমাদের দেশের ‘অসাধারণ’ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আসা বোর্ড কর্তারা এভাবেই দেশের ক্রিকেট চালাচ্ছেন।”
একই সুরে ডিবিসি নিউজের হেড অব স্পোর্টস আব্দুল্লাহ হীরা মন্তব্য করেছেন যে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসার কারণেই এমন মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। তিনি একে ক্রীড়া সংগঠকদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেন।
ক্রীড়া সংগঠক সিরাজুদ্দিন আলমগীর গভীর হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলে এমন অক্রিকেটীয় ভাষা ব্যবহার করা স্বাভাবিক। অন্যদিকে, তাহমিদ আজিজুল হক মনে করেন এই কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে তামিমের উচিত মানহানির মামলা করা।
________________________________________
মূল ঘটনার প্রেক্ষাপট:
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বিসিবি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে না যাওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্তের কথা আইসিসিকে জানিয়েছিল। তবে আইসিসি স্পষ্ট করেছে যে, সূচি নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় এখন ভেন্যু পরিবর্তন অসম্ভব। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে গত বৃহস্পতিবার তামিম ইকবাল বলেন, “চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে প্রতিটি ধাপে মন্তব্য করা উচিত নয়, এতে অহেতুক অস্থিরতা তৈরি হয়। নিরাপত্তা ইস্যু বা যে কোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।”
দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “আবেগ দিয়ে এত বড় প্রতিষ্ঠান চালানো যায় না। আজকের সিদ্ধান্তের প্রভাব আগামী ১০ বছর পর কী হবে, তা ভেবেই বিসিবিকে এগোতে হবে। ক্রিকেটার ও দেশের জন্য যা মঙ্গলজনক, সেই সিদ্ধান্তই নেওয়া উচিত।”

