বিসিবি নির্বাচনে ইউনূসীয় হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি: তামিমকে ঘিরে ইশরাকের “জনতার সভাপতি” প্রপঞ্চ

বিসিবি নির্বাচনে ইউনূসীয় হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি: তামিমকে ঘিরে ইশরাকের “জনতার সভাপতি” প্রপঞ্চ
শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। ইউনূস সরকারের হস্তক্ষেপ বন্ধ না হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার এবং প্রয়োজনে বিসিবি ভবন ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন।

এরই মধ্যে তিনি নিজেকে ‘জনতার মেয়র’ ঘোষণা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনে গিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। এবার একই ধারায় তামিম ইকবালকে ‘জনতার বিসিবি সভাপতি’ বানানোর প্রত্যয় প্রকাশ করেছেন কি ইশরাক? এই প্রশ্ন উঠেছে ক্রিকেট পরিদর্শকদের মধ্যে, যখন বিসিবি নির্বাচনের তারিখ ৪ঠা অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে।

ইশরাক হোসেনের এই সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি বিসিবি নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এসেছে, যখন সাবেক ক্রিকেটার তামিম ইকবাল খান নিজেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।

এক সাক্ষাৎকারে তামিম বলেছেন, “আমি এবার নির্বাচন করছি। ক্রিকেটে বিনিয়োগ করেছি, দুটি ক্লাবের সঙ্গে জড়িত। ফলে কাউন্সিলর হবই।”

তিনি পরিচালক পদে লড়াই করে পরবর্তীতে সভাপতি হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। বিএনপি নেতা আলী আসগার লবীও তামিমকে তাদের প্যানেলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যা অন্তর্বর্তী সরকারপন্থী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেয়।

ইশরাকের বক্তব্যে বলা হয়েছে, “বিসিবি নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপ চলতে থাকলে আমরা আইনি পথে যাব। প্রয়োজনে ঘেরাও করে জনগণের অধিকার রক্ষা করব।”

এটি তার ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত, যেখানে আদালতের রায়ে তাকে ‘প্রকৃত বিজয়ী’ ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে চেয়ার দখলের চেষ্টায় বিতর্ক হয়। সেই একই ‘জনতার প্রতিনিধি’ ভাবনায় এবার তামিমকে টেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইশরাক, যদিও তিনি সরাসরি এমন কোনো বিবৃতি দেননি।

বিএনপি সূত্র জানায়, তামিমের মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটারকে ‘জনতার সভাপতি’ হিসেবে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নির্বাচনী লড়াই জোরদার করার পরিকল্পনা চলছে।

প্রভাব: ক্রিকেট রাজনীতির নতুন অধ্যায়

এই ঘটনা বিসিবি নির্বাচনকে রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। তামিমের অংশগ্রহণ নির্বাচনকে আকর্ষণীয় করলেও সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।

ক্রিকেটবোদ্ধাদের মতে, এতে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বাড়তে পারে।

তামিম বলেছেন, “এখন যা হচ্ছে তা মোটেও ভালো না। সবাই একে অপরকে ছোট করছে। আমরা আধুনিক ক্রিকেটের জন্য নতুন চিন্তা আনতে চাই।”

বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, এই লড়াই জনগণের ক্রিকেট অধিকার রক্ষার জন্য। অন্যদিকে, বিসিবি সূত্র জানায়, নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত হবে এবং কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

কিন্তু ইশরাকের ‘জনতার মেয়র’ থেকে ‘জনতার সভাপতি’ এর ধারণা কতদূর বাস্তবায়িত হবে? তামিমের মতো তারকাকে রাজনৈতিক প্যানেলে টেনে নেওয়া কি ক্রিকেটের ভালো হবে, না উত্তেজনা বাড়াবে? এই প্রশ্নের উত্তর দেবে আসন্ন নির্বাচন। ততক্ষণ, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢাকা, এবং জনগণের চোখ বিসিবির দিকে।

Visited 16 times, 1 visit(s) today