আন্তর্জাতিক
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সভার প্রাক্কালে বিশ্ব রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক মোড় নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্সসহ দশটি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত, যা ১৯৬৭ সালের সীমান্তভিত্তিক (পূর্ব জেরুসালেম সহ), গাজা যুদ্ধের ক্রোড়পথে এসেছে, বিশ্বের ৭৮ শতাংশ দেশের সমর্থনকে আরও দৃঢ় করেছে। কিন্তু এর প্রভাব কী? এটি শান্তির পথ খুলবে, না হবে নতুন উত্তেজনার বীজ?
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাজ্য ১০৮ বছর পর বালফোর ঘোষণার (১৯১৭) প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
“এটি শুধু প্রতীকী নয়, এটি টু-স্টেট সমাধানের জন্য একটি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি,” স্টারমার বলেন।
কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো মার্কিন মিত্ররাষ্ট্রগুলোর এই পদক্ষেপ আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরোধিতাকে উপেক্ষা করে নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ একটি বহুপাক্ষিক সম্মেলনে বলেন, “এটি গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সাহায্যের পথ সহজ করবে।”
এই স্বীকৃতির আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্ময়কর। প্রথমত, ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে – এখন তারা জাতিসংঘে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের পরিবর্তে সম্পূর্ণ সদস্যতার দাবি আরও জোরালো করতে পারবে।
দ্বিতীয়ত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো সংস্থাগুলোতে ফিলিস্তিনের অংশগ্রহণ বাড়বে, যা বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে। মধ্যপ্রাচ্যে এটি সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর ইসরায়েল স্বীকৃতির পথও সহজ করতে পারে, যা আঞ্চলিক শান্তির একটি চক্র তৈরি করবে।
কিন্তু চ্যালেঞ্জগুলো অস্বীকার করা যায় না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু এটিকে “সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করা” বলে সমালোচনা করেছেন, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
আমেরিকা, যারা এখনও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়নি, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দিয়ে এই প্রক্রিয়া আটকাতে পারে। গাজায় চলমান যুদ্ধে ৫ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে, এবং হামাসের হাতে বন্দি ইসরায়েলিদের মুক্তির প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত।
ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক ডায়ানা বুত্তু বলেন, “এটি সম্ভাবনা এবং ভয়ের মিশ্রণ – প্রতীকী স্বীকৃতি ছাড়া বাস্তব পদক্ষেপ না হলে এটি শুধু কাগজের লেখা হয়ে যাবে।”
ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের রামাল্লায় স্থানীয়রা এই সংবাদে আনন্দিত, কিন্তু তারা বাস্তব সাহায্য চায় – যেমন ইসরায়েলি বসতি স্থাপন বন্ধ এবং গাজায় ত্রাণ সরবরাহ। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আঘাবেকিয়ান শাহিন বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা – বিশ্ব ফিলিস্তিনের অধিকারকে অস্বীকার করতে পারে না।”
এই স্বীকৃতি কি গাজায় শান্তি ফিরিয়ে আনবে? নাকি এটি নতুন কূটনৈতিক যুদ্ধের সূচনা? সময়ই বলবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট: ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার স্বপ্ন এখন আরও কাছে এসেছে, এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের দায়িত্ব আরও বেড়েছে।
