❐ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাকে “ভুল” উল্লেখ করে তা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। উপসাগরীয় অঞ্চলে তিন দিনের সফরকালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্টারমার বলেন, এটি কেবল প্রযুক্তিগত কোনো বিষয় নয়, বরং নীতিগত প্রশ্ন—যেখানে নিরীহ মানুষের জীবন রক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, যুক্তরাজ্য এখনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বিবরণ পায়নি, ফলে হামলাগুলো চুক্তি লঙ্ঘন করেছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের হামলায় প্রায় ৩০৩ জন নিহত হয়েছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই হামলাকে যুদ্ধবিরতির “গুরুতর লঙ্ঘন” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়ে না।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেন্জামিন নেতানিয়াহু লেবাননের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
উপসাগরীয় সফরের অংশ হিসেবে স্টারমার ইতোমধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন সফর শেষে কাতারে পৌঁছেছেন। সফরের মাঝে আমেরিকান প্রেসিেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তার কথা হয়।
দুই নেতা গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং দ্রুত নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে হয়ে থাকে, যা সাম্প্রতিক উত্তেজনায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এই জলপথে কোনো ধরনের টোল বা বিধিনিষেধ আরোপের বিরোধিতা করে বলেন, এটি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা ও লেবাননে হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে, যা বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে তুলছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এবং লেবাননকে এর অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে সংঘাত আরও বিস্তৃত না হয়।
