❐ ফিচার ডেস্ক
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এম্পেরর পেঙ্গুইন ও অ্যান্টার্কটিক ফার সিলের সংখ্যা, ফলে এই দুই প্রজাতিকে এখন বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এদের অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, সমুদ্রের বরফ দ্রুত গলে যাওয়া এবং খাদ্যের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় এই প্রাণীগুলোর স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে এম্পেরর পেঙ্গুইনের বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বরফ ভেঙে যাওয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে পেঙ্গুইনের বাচ্চারা ঠান্ডায় মারা যাচ্ছে বা পানিতে ডুবে যাচ্ছে।
গত এক দশকে এম্পেরর পেঙ্গুইনের সংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে ২০৮০ সালের মধ্যে এদের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।
অন্যদিকে, অ্যান্টার্কটিক ফার সিলের অবস্থাও উদ্বেগজনক। গত প্রায় ২৬ বছরে এদের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বরফ কমে যাওয়ার ফলে ক্রিল নামক প্রধান খাদ্যের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা এই প্রাণীগুলোর বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রের পরিবেশে পরিবর্তনের কারণে খাদ্যের অবস্থান ও প্রাপ্যতা বদলে যাচ্ছে, ফলে এই প্রাণীগুলোকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এছাড়া কিছু প্রজাতির সিলের মধ্যে রোগের সংক্রমণও বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
পরিবেশবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তনের একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। তারা দ্রুত গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমানো এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস করার ওপর জোর দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতিগুলোর সংখ্যা আরও দ্রুত কমে যেতে পারে এবং একসময় তারা বিলুপ্তির মুখে পড়তে পারে।
