নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৬ জানুয়ারি ২০২৬: মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরাঙ্গনা যোগমায়া মালো আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মধ্যপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার অন্তিম সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো তার দেহে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়।
১৯৭১ সালের ২২ মে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা শরীয়তপুরের মধ্যপাড়া গ্রামে গণহত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। সেদিন যোগমায়া মালোর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়। তখন মাত্র ১৫ বছর বয়সী যোগমায়াকে অন্যান্য নারী-পুরুষসহ লঞ্চে তুলে মাদারীপুরের এআর হাওলাদার জুট মিলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুরুষদের অনেককে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং নারীদের তিন দিন তিন রাত আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। এই অমানবিক যন্ত্রণার শিকার হয়ে যোগমায়া বীরাঙ্গনার মর্যাদা লাভ করেন।
স্বাধীনতার পর তিনি স্বামী ও সন্তানদের কাছে ফিরে আসেন, কিন্তু জীবনভর শারীরিক-মানসিক ক্ষত বয়ে বেড়ান। স্বামী নেপাল মালো মারা যাওয়ার পর দুই সন্তান নিয়ে কষ্টের জীবন কাটাতে হয় তাকে।
দীর্ঘদিন অন্যের আশ্রয়ে থাকলেও ২০১৮ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় বীরাঙ্গনার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর তিনি ভাতা পেতে শুরু করেন। গত বিজয় দিবসে (১৬ ডিসেম্বর ২০২৫) শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘বীর নিবাস’ নামে একটি পাকা ঘর উপহার পান তিনি। কিন্তু নতুন ঘরে মাত্র এক রাত কাটানোর সুযোগ হয় তার।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ক্যান্সারের চিকিৎসায় ভাতার অর্থ ব্যয় হতো। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী এই বীরাঙ্গনার বিদায়ে দেশ হারালো এক নীরব সাক্ষীকে, যার জীবন ছিল যুদ্ধের নৃশংসতা ও স্বাধীনতার মূল্যের জ্বলন্ত উদাহরণ।
