নিজস্ব প্রতিবেদক::
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের অর্ধেকের বেশি ভোট কেন্দ্রই ঝূকিপূণূ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ঢাকায়। এমন পরিস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে গুপ্ত সংগঠন জামায়াত শিবির নির্বাচন নিয়ে নীলনক্সা আঁকছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের নামে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে মামলা, হামলা, নির্যাতনসহ আইন করে নির্বাচনে বাইরে রাখায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ নিন্দা জানিয়েছে। তারা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য ইউনূস সরকারকে আহ্বান জানালেও সরকার একতরফা নির্বাচন করতে চাচ্ছে।
পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭ হাজার ৫৫৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে প্রশাসনকে দিয়ে মাঠ গুচিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থানা লুটের অস্ত্র জামায়াত শিবিরের ক্যাডারদের হাতে চলে যাওয়ায় চিন্তিত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানায়, রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন এলাকা ভাগ করে সারা দেশের ভোটকেন্দ্রগুলোকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। বিগত নির্বাচনে সহিংসতার পরিসংখ্যান ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৭ হাজার ৩৫৯টি, অতি ঝুঁকিপূর্ণ আট হাজার ৭৪৬টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ১৬ হাজার ৩৫৯টি।
ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে। ভোটগ্রহণ শুরু থেকে ফলাফল গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশের বিশেষ টিম অস্ত্রসহ দায়িত্ব পালন করবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে থাকবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা। কেন্দ্র দখল, জালভোট ও সহিংসতা প্রতিরোধে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, ভোটার সংখ্যা, আধিপত্য বিস্তার, থানার দূরত্ব, দুর্গমতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো বিবেচনায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে রেড, ঝুঁকিপূর্ণগুলোকে ইয়েলো এবং সাধারণ কেন্দ্রগুলোকে গ্রিন মার্ক করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে একাধিক বৈঠকে নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
ডিএমপির দুই হাজার ১৩১টি কেন্দ্রের মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৬৯৫টি ও ঝুঁকিপূর্ণ এক হাজার ১৩৩টি। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের ৬০৭ কেন্দ্রের মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৩১২টি। গাজীপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কেন্দ্র ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে আট হাজার ৩১টি কেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৩৩ জন নিহত ও সাত হাজার ৫১১ জন আহত হন। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ৫৪টি সহিংসতায় তিন জন নিহত ও ৪৯৪ জন আহত হয়েছেন। আসকের হিসাবে, ২০২৫ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হন ১০২ জন।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, আগামী ৩৭ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। এই সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নিয়ে নির্বাচন কমিশন আগেই প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধে তিনি বলেন, নির্বাচন এলে রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এটা বলা যায়। তবে, এবার যেন এমন কিছু না হয় সেজন্য পুলিশ মাঠে খুবই সতর্ক রয়েছে।
