নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে হামলার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই ব্যবসায়ীদের মারধর করা হয় বলে দাবি করেছেন অংশগ্রহণকারীরা। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সোমবার সকাল ১১টার দিকে কিচেন মার্কেটের সামনে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামীয়া শান্তি সমিতির ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শতাধিক ব্যবসায়ী অংশ নেন। তারা দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক মাস ধরে নতুন করে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। নিয়মিত টাকা না দিলে হুমকি ও মারধরের শিকার হচ্ছিলেন তারা। এ অবস্থায় শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে জড়ো হন ব্যবসায়ীরা।
মানববন্ধন চলাকালে হঠাৎ একদল ব্যক্তি এসে বাধা দেয়। প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। হামলার শিকার ব্যবসায়ীরাও লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মাঠে নামানো হয়। কিছু সময়ের মধ্যে এলাকা শান্ত হয়। বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল করিম বলেন, কারওয়ান বাজারে একাধিক ব্যবসায়ী গ্রুপ রয়েছে। মানববন্ধনে এক পক্ষের বিপক্ষে আরেক পক্ষ অবস্থান নেয়। এ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
তিনি জানান, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীদের থানায় এসে মামলা করতে বলা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একটি গ্রুপ নিয়মিত চাঁদা আদায় করছিল। টাকা না দিলে মারধর ও হুমকি দেওয়া হতো। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়।
কারওয়ান বাজার ইসলামীয়া শান্তি সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে যুবদল নেতা আব্দুর রহমান ও তার লোকজন হামলা করেছে। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। চাঁদাবাজির স্থায়ী বিচার চান ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্যসচিব সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন, মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কমিটি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আব্দুর রহমানকে টার্গেট করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষে আব্দুর রহমান জড়িত ছিলেন না। আগে তাকে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের কারণে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি থেকে তৈরি হয়েছে।
