❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক
গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। বিস্ফোরণে মাদ্রাসার আবাসিকে থাকা নারী, শিশুসহ পার্শ্ববর্তী ভবনের ৮-১০ জন আহত হন। ভয়াবহতা এতই প্রকট ছিল যে, মাদ্রাসার একতলা ভবনের পশ্চিম পাশের দুটি কক্ষের দেয়াল পুরোপুরি উড়ে যায়। ছাদ ও বিমে ফাটল ধরেছে। পাশ্ববর্তী আরও কয়েকটি কক্ষের দেয়াল ফেটে গেছে। ঘটনাস্থল থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, রাসায়নিক দ্রব্যসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা।
ঘটনা জানাজানির পর শঙ্কিত সাধারণ মানুষ। ২০০১ সালের পর থেকে দেশে জঙ্গিদের যে তাণ্ডব দেখেছিল মানুষ, সেই স্মৃতি ফিরে এসেছে।
গত বছরের জুলাই সন্ত্রাসের সমর্থকরা এই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে শুরু থেকেই। প্রথমদিকে একে গ্যাস সিলিন্ডার বা এসি বিস্ফোরণ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের পর একে ‘শেখ হাসিনা সরকারের পুলিশের মতো সৃষ্ট নাটক’ বলে উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।
পড়ুন: বিস্ফোরণে গুঁড়িয়ে গেল কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসা: নারী-শিশুসহ আহত ১০, বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার
এ সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদগুলোর কমেন্ট সেকশনে জঙ্গি-সমর্থকদের জিহাদি জোশ দেখে স্পষ্ট হয়ে যায়, জঙ্গিবাদ দমনকে ইসলামের ওপর আঘাত বলে প্রতিষ্ঠিত করতে উঠে পড়ে লেগেছে খোদ ইসলামপন্থি উগ্রবাদীরাই।
ঘটনাটি একটু বিশ্লেষণ করা যাক
উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার নেপথ্যে কারা রয়েছে? কার অধীনে পরিচালিত হচ্ছিল মাদ্রাসাটি? অনুসন্ধানে মিলেছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ভবনের এক পাশে তিনটি কক্ষে মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালিত হতো। অপর পাশের একটি কক্ষে মাদ্রাসার মুহতামি (পরিচালক) শেখ আল আমিন (৩২) পরিবারসহ গত তিন বছর ধরে বসবাস করছিলেন। ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থ পড়ত মাদ্রাসাটিতে। বিস্ফোরণে আল আমিন নিজে এবং তার স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮) এবং তাদের তিন সন্তানের দুই ছেলে উমায়েত (১০) ও আবদুল্লাহ (৭) আহত হন। আহতরা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভবনমালিক পারভীন বেগম বলেন, মাদ্রাসা করবেন বলে ৩ বছর আগে আমার বাড়ি ভাড়া নেন মুফতি হারুন। তার শ্যালক শেখ আল আমিন ও স্ত্রী আছিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা করে। কিন্তু মাদ্রাসার আড়ালে কী করে তারা, তা বুঝতে পারিনি। এখন দেখি পুরো ভবনটাই উড়িয়ে ফেলেছে তারা। পুলিশ ভেতর থেকে বোমা-টোমা বানানোর সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে আমার উপস্থিতিতে।
এই মুফতি হারুন ইজহার ছিলেন হেফাজতে ইসলামের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সাবেক সম্পাদক। একইসাথে তিনি আরও কয়েকটি উগ্রবাদী জিহাদি সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছেন। জঙ্গিবাদে সংশ্লিষ্টতার দায়ে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। চট্টগ্রামের লালখান বাজারে তার মালিকানাধীন মাদ্রাসায় এর আগেও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হতো সেই মাদ্রাসাটি।
তার পিতা ইজহারুল ইসলাম উপমহাদেশের অন্যতম শীর্ষ জঙ্গি নেতা। ৮০’র দশকে তালেবানের পক্ষে আফগানিস্তানে যুদ্ধ করা এই দুর্ধর্ষ জঙ্গি নেতার হাতে পাকিস্তান, ভারত, আফগানিস্তানে প্রশিক্ষিত হয়েছে হাজার হাজার জঙ্গি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন বলছে, ইজহারুল ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস-আইইডি তৈরিতে এতটাই দক্ষ ছিলেন যে, তাকে এই বিষয়ে ‘গুরু’ ভাবা হয়। এমনকি তার নিজের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির আইইডি শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল তৎকালীন প্রযুক্তিতে। সেই ইজহারুলের যোগ্য পত্র হারুন ইজহার। পিতার শিক্ষা ছড়িয়ে দিয়েছেন দেশের অসংখ্য জঙ্গির মাঝে।
কে এই শেখ আল আমিন?
হারুন ইজহারের শ্যালক শেখ আল আমিন ওরফে রাজিব আন্তর্জাতিকভাবে কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির একজন প্রশিক্ষিত সদস্য। ২০১৭ সালে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততা ও নাশকতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সে সময় তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক দ্রব্য, জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধকরণ বই, লিফলেটসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
এই দুর্ধর্ষ জঙ্গিকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তখন উগ্রবাদীরা একে শেখ হাসিনা সরকারের ‘নাটক’, ‘আলেমদের হয়রানি’, ‘ইসলামপন্থিদের ওপর নিপীড়ন’… ইত্যাদি নানা অপতথ্য ও গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। কিন্তু এখন উগ্রবাদীদের প্রিয় ইউনূস সরকারের সময় সেই জঙ্গি আল আমিনের পরিচালিত মাদ্রাসা থেকে যখন বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার হলো, তখন একে কি আর ‘নাটক’ বলে ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব?
বিস্ফোরণের পর মাদ্রাসা থেকে উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক সামগ্রী এবং অন্যান্য উপাদান দেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জানান, এখানে সুইসাইডাল ভেস্ট তৈরির আলামত দেখতে পেয়েছেন তার।
জঙ্গিরা আত্মঘাতী হামলা চালানোর জন্য যে বিস্ফোরকভর্তি ভেস্ট পরিধান করে কাপড়ের ভেতরে, তেমন ভেস্ট তৈরি হচ্ছিল এই মাদ্রাসায়। এসব ভেস্ট কখনো বাহকের হাতে ইলেক্ট্রনিক সুইচের মাধ্যমে, কখনো দূর নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে সক্রিয় করা হলে বাহক নিজে এবং বিস্ফোরকের ক্ষমতা অনুসারে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা কিংবা টার্গেট করা ব্যক্তিসহ আশপাশের সবাইকে হত্যায় ব্যবহৃত হয় এমন ভেস্ট।
এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে পাইপ বোমা। যে পাইপ বোমা ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে লালখান বাজারে অবস্থিত হারুন ইজহারের মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের পর সেখান থেকেও উদ্ধার হয়েছিল।
কতটা ভয়ঙ্কর এক পরিস্থিতিতে পড়েছে বাংলাদেশ, তা ভাবনারও অতীত সাধারণের কাছে। এমন দুর্ধর্ষ জঙ্গিরা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সুযোগ পায়নি এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য।
পড়ুন: বিস্ফোরণের পর মাদ্রাসা থেকে ভয়াবহ এবং অদ্ভূত সব বস্তু পেল সিআইডি!
বিস্ফোরণের ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশের ভাষ্য
মাদ্রাসা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য আল আমিন শেখ ওরফে রাজিবের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। গতকাল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মাদ্রাসার আড়ালে বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে একাধিক বিস্ফোরক দ্রব্য, বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং সন্দেহজনক আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, মাদ্রাসার পরিচালক আল আমিন শেখ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সক্রিয় সদস্য। তিনি তামিম–সারোয়ার গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ঘটনার পর থেকে আল আমিন পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আল আমিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম, তার বড়ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার ও আসমানী খাতুন নামে এক নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে মাদ্রাসার আড়ালে বোমা তৈরির কর্মকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ সুপার জানান, আল আমিনের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অতীত রেকর্ড রয়েছে। ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার বক্তাবলী এলাকা থেকে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। সে সময় তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক দ্রব্য, জিহাদি বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং মাদ্রাসার আড়ালে জঙ্গি কার্যক্রম চালানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অতীত এবং বর্তমানের ফারাক
আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি ও ত্বরিৎ পদক্ষেপে দেশে জঙ্গিবাদ প্রায় নির্মূল হয়ে যায়। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে সৃষ্ট জঙ্গিবাদের বিভীষিকা ইতিহাসে ঠাঁই নেয়। জঙ্গি দমনে শেখ হাসিনার সরকার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক প্রশংসিত হলেও জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকরা স্বভাবতই অসন্তুষ্ট ছিল। চিহ্নিত কিছু দেশি-বিদেশি সংগঠনের মাধ্যমে তারা জঙ্গিবাদ দমনকে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ তকমা দিয়ে জলঘোলা করে গেছে শেখ হাসিনার পুরো শাসনকাল। এতে মদদ জুগিয়েছে কিছু গণমাধ্যমও। তারা জঙ্গি আটক, জঙ্গিবাদ দমনে গৃহীত পদক্ষেপ এবং জঙ্গি দমন অভিযানগুলোকে কখনো ‘ভিন্নমত দমন’, কখনো ‘সরকারের স্ক্রিপ্টেড নাটক’ আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটেছে।
কিন্তু এ সবই ছিল বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ, যা পরিস্কার হয়ে যায় গত বছরের জুলাই সন্ত্রাসের পর। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলনের ছদ্মাবরণে সারাদেশে চলে পরিকল্পিত জঙ্গি হামলা। দেশের ১৭টি কারাগার ভেঙে বের করে আনা হয় দুর্ধর্ষ জঙ্গি ও দাগি অপরাধীদের। কুষ্টিয়া, নরসিংদী, শেরপুর, সাতক্ষীরা, কাশিমপুর হাই সিকিউরিটিসহ বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ২,২৪৭ বন্দিকে বের করে আনা হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭শ দুর্ধর্ষ অপরাধী রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর বাইরে রাজনৈতিক বন্দি আখ্যায় হাজার হাজার কুখ্যাত দাগি অপরাধীকে জামিনে বের করে আনা হয়।
শুধু বন্দি পালানো নয়, বিভিন্ন কারাগারের অস্ত্রভাণ্ডার থেকে লুট হয়েছে ভারী অস্ত্র-গোলাবারুদ। যা চলে গেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও প্রশিক্ষিত জঙ্গিদের হাতে। গত বছরের ৪ঠা আগস্ট থেকে পরবর্তী কয়েকদিনে দেশের ৪৬০টির বেশি থানা ও ফাঁড়ি ধ্বংস করে সেখান থেকে লুট হয়েছে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ নিরাপত্তা সরাঞ্জাম। গণভবন এবং সংসদ ভবনে এসএসএফ-এর অত্যাধুনিক অস্ত্র, গোয়েন্দা সরঞ্জাম, নিরাপত্তা সামগ্রী, স্পর্শকাতর অ্যাক্সেসরিজ কিছুই উদ্ধার হয়নি। এসবের মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কে সংযোগকারী যন্ত্রপাতিও রয়েছে।
লুটকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ আগস্টের পর থেকে সারাদেশ সহিংসতা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রশিক্ষিত জঙ্গিরাও এসব অস্ত্র ব্যবহার করে দেশে নাশকতা ঘটাতে পারে বলে সেসময় শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। এরইমধ্যে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন খোদ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এ যেসব অস্ত্র উদ্ধারের কথা ছিল, তা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন।
জুলাই সন্ত্রাসের পর গত বছর থেকে হত্যা-সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। অথবা বলা যায় নিয়ন্ত্রণের সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না ইউনূস সরকারের পক্ষ থেকে। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এখন নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার, রাখঢাকের বালাই নেই, প্রকাশ্যেই চলছে খুন-খারাবি। অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সামনে নির্বাচন। এর আগেই কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা হত্যাকাণ্ড এবং আক্রমণের শিকার হযেছেন। নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে ইউনূস সরকার ও তার আজ্ঞাবহদের মসনদ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে সুবিধাভোগীরা। শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং দুর্ধর্ষ জঙ্গিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে সারাদেশে।
এমন অবস্থায় দেশে জঙ্গিবাদ প্রকট আকার ধারণ করলে কেউ না কেউ লাভবান হবেই।
দু’দিন আগে নাইজেরিয়ায় ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠনের ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। স্বাধীন দেশ নাইজেরিয়ায় বিমান হামলা চালাতে কারো তোয়াক্কা করেনি যুক্তরাষ্ট্র। জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়েছে, নির্মূল করতে হবে-বিমান হামলার জন্য এটুকুই যথেষ্ট ছিল। হামলায় জঙ্গিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও কুছ পরোয়া নেহি। নাইজেরিয়া সরকারের ক্ষমতাও নেই যে যুক্তরাষ্ট্রকে বাধা দেয়।
বাংলাদেশের মত বিশ্বের সর্বোচ্চ ঘনবসতিপূর্ণ দেশে জঙ্গিবাদের বাম্পার ফলন হলে কী ঘটবে- সাধারণ মানুষের ভেবে দেখা উচিৎ। ‘নাটক’ বলে পার পাওয়া যাবে তো?

