নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫: মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিমান বাহিনী প্রধান ও সাবেক মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার বীর উত্তম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৯৬ বছর। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এ কে খন্দকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শোকবার্তায় তিনি বলেন, এ কে খন্দকারের মৃত্যুতে দেশ একজন বীর সন্তানকে হারাল। তিনি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এ কে খন্দকারের পূর্ণ নাম আবদুল করিম খন্দকার। তিনি ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন (পিতার কর্মস্থল হিসেবে), আদি নিবাস পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার ভারেঙ্গা গ্রামে। ১৯৫২ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হয়ে ফাইটার পাইলট ও ইন্সট্রাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনী থেকে পদত্যাগ করে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান নিযুক্ত হন এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বিমান বাহিনীকে পুনর্গঠন করেন। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাব এবং ২০১১ সালে স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়।
স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমানের আমলে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। এইচ এম এরশাদের শাসনামলে পরিকল্পনামন্ত্রী হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে পাবনা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার সম্মানে ঢাকার কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটির নামকরণ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স বেস বীর উত্তম এ কে খন্দকার’।
এ কে খন্দকারের প্রয়াণে দেশ একজন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা ও দূরদর্শী নেতাকে হারাল। তার অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে।

