নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আজ শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে। মতিঝিলের বিজয়নগর কালভার্ট এলাকার কাছে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে (ওসেক) নেওয়া হয়।
জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ইস্রাফিল ফরায়েজী জানান, নির্বাচনী প্রচারণাকালে ওসমান হাদীর ওপর এই হামলা চালানো হয়। ঢাকা মেডিকেল ক্যাম্প ইনচার্জ মো. ফারুক নিশ্চিত করেছেন যে তার বাম কানের নিচে গুলি লেগেছে।
ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, বিজয়নগর এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। টিম পাঠানো হয়েছে, তথ্য পেলে বিস্তারিত জানাবো।
হামলার সময় ওসমান হাদীর সঙ্গে থাকা মিসবাহ জানান, জুমার নামাজ শেষে রিকশায় যাওয়ার সময় দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে কাছ থেকে গুলি ছোড়ে। তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে রিকশায় করেই আহত হাদীকে হাসপাতালে আনা হয়।
এর আগে গত ১৩ই নভেম্বর ওসমান হাদী অভিযোগ করেছিলেন, বিদেশি নম্বর থেকে কল ও টেক্সট দিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনি ঢামেকের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে চিকিৎসাধীন। পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেছে।
সর্বশেষ অবস্থা
দাবি করা হচ্ছে, ঘাতকের সম্ভাব্য টার্গেট ছিল কপাল বরাবর। তবে হাদী চলন্ত রিকশায় থাকায় টার্গেট মিস হয়ে বুলেট প্রবেশ করে চোয়ালে, যা সরাসরি মস্তিষ্কে আঘাত করে। এই অবস্থায় প্রচুর রক্তক্ষরণের পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যক্রম দুর্বল হতে শুরু করে। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা ও দেহ শকে চলে যায়। একইসাথে রক্তক্ষরণে দেহ অসাড় হয়ে পড়ে।
এই কন্ডিশনকে জিসিএস স্কেল দিয়ে পরিমাপ করা হয়। ওসমান হাদির জিসিএস স্কোর ৩, যার অর্থ, শুধু কোমা নয়, গভীর কোমা। এটি কোমার সর্বশেষ অবস্থা।
এ অবস্থায় চোখে দেখা, কানে শোনা, কথা বলা অর্থাৎ ভুক্তভোগীর দেহের সকল মোটর নিউরনই সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এই অবস্থায় দেহের কন্ডিশন উন্নত না হলে পরিণতি মৃত।
