স্পোর্টস ডেস্ক
মঙ্গলবার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও সিরিজ নির্ধারণী টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। দলের জয়ে তানজিদ হাসান তামিমের অবদান ছিল অনবদ্য; তিনি প্রথমে রেকর্ড পাঁচটি ক্যাচ ধরেন এবং পরে অপরাজিত হাফ-সেঞ্চুরি করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। তার আগে জেতার ভিত গড়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেন। দুজনেই নেন তিনটি করে উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে তানজিদ তার দক্ষতার প্রমাণ দেন। তিনি ৩৬ বলে ৩টি ছক্কা ও ৪টি চারের সাহায্যে অপরাজিত ৫৫ রান করেন। তার এই সাবলীল ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ ১৩.৪ ওভারেই ৮ উইকেট হাতে রেখে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। সাইফ হাসান (১৯) এবং লিটন দাস (৭) দ্রুত আউট হওয়ার পর, ৪ নম্বরে নামা পারভেজ হোসেন ইমন ২৬ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
আয়ারল্যান্ড শুরুটা ভালো করলেও স্বাগতিক বোলারদের তোপে খেই হারিয়ে ফেলে। পাওয়ারপ্লে শেষে ২ উইকেটে ৫১ রান তোলা আয়ারল্যান্ড পরবর্তী ১৩.৫ ওভারে মাত্র ৬৭ রান যোগ করতে গিয়ে বাকি ৮টি উইকেট হারায়।
বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান এবং লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ৩টি করে উইকেট নিয়ে বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দেন। আগের দুই ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকা মোস্তাফিজ চট্টগ্রামের মন্থর উইকেটের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ৩ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন।
দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে বাদ পড়ার পর দলে ফেরা রিশাদ ২১ রানে নেন ৩ উইকেট। এছাড়া শরিফুল ইসলাম দুটি এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মাহেদি হাসান একটি করে উইকেট নেন।
আইরিশদের হয়ে অভিজ্ঞ পল স্টার্লিং ২৭ বলে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন। দলের অন্য মাত্র তিনজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শেষ সিরিজের শুরুটা হার দিয়ে হলেও, এই সিরিজ জয় টাইগারদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে এনেছে।
তানজিদের বিশ্বরেকর্ড ও ব্যাটিং: টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নামা বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডের শুরুর রানের গতি রোধ করে ১৯.৫ ওভারে মাত্র ১১৭ রানেই তাদের অলআউট করে দেয়। ফিল্ডিংয়ের সময় তানজিদ পাঁচটি ক্যাচ নিয়ে এক টি-টোয়েন্টি ইনিংসে সর্বোচ্চ ক্যাচের বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করেন। এই রেকর্ডটি এতদিন মালদ্বীপের ওয়েদাগে মালিন্দা এবং সুইডেনের সেদিক সাহাকের দখলে ছিল।
