নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ রঙ ব্যবহার করে মঞ্চের সিঁড়ি বানিয়েছে যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১৭ আয়োজিত গণসমাবেশ। স্বাধীনতার প্রতীক, ৩০ লাখ শহিদের রক্তের চিহ্ন আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করা এই রঙকে পায়ের নিচে ব্যবহার করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও ব্যাপক নিন্দা।
ছবিতে দেখা যায়—মঞ্চের উভয় পাশে সিঁড়িগুলো সম্পূর্ণভাবে লাল-সবুজ রঙে রাঙানো। অংশগ্রহণকারীরা সিঁড়িতে হাঁটছেন, দাঁড়াচ্ছেন—এমন দৃশ্যে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বিশেষ করে যে রাজনৈতিক দলটি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকা ও ১৯৭১-এর বিরোধিতার ইতিহাস বহন করে, তাদের এমন আয়োজনকে অনেকেই বলেছেন সচেতন উসকানি, জাতীয় মর্যাদায় আঘাত এবং অশ্রদ্ধার শামিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শতাধিক পোস্টে মানুষ প্রশ্ন তুলেছে — জাতীয় পতাকার রঙ কি মঞ্চের সিঁড়িতে পায়ের নিচে পড়ার জন্য? এটা কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি প্রকাশ্য অবমাননা নয়?
বিশেষজ্ঞ ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষকদের মতে, জাতীয় পতাকার রঙ বা প্রতীক এমনভাবে ব্যবহার করা যাবে না, যা পতাকাকে অসম্মানিত করে। পতাকা আইনেও পতাকার মর্যাদা রক্ষার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু জামায়াতের এই আয়োজন সেই নীতিকে তুচ্ছজ্ঞান করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন— “যারা স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল, তারা এখন পতাকার রঙকে পায়ের নিচে বসিয়ে নতুনভাবে আমাদের অপমান করছে।”
এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, জামায়াত ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় অনুভূতিকে বিদ্রূপের মুখে ফেলেছে। অন্যদিকে সমালোচকরা এটিকে রাষ্ট্রীয় প্রতীক ব্যবহারের অপব্যবহার ও দেশের প্রতি অবমাননাকর আচরণ উল্লেখ করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন।
জাতীয় পতাকা দেশের স্বাধীনতার মর্যাদার প্রতীক—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সচেতন মহল বলছে, “এই অবমাননার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।”
