নিজস্ব প্রতিবেদক
আল্লাহ, ইসলাম, কোরান, বেহেশতের ব্যবহার করে ভোটের মাঠ দখলের চেষ্টা করছে যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামী। ভোটের মাঠ দখলে ‘বেহেশতের টিকিট বিক্রি’, ‘কোরানে জামায়াতের নাম আছে’, আল্লাহ সূর্য দাঁড় করিয়ে রাখেন’ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে- এমন সব ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অনেক নেতৃবৃন্দ সরব। রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক মহলে জামায়াতে ইসলামীকে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তবে শাহজাহান চৌধুরীর মতো জামায়াতের প্রভাবশালী নেতারা এসবকে থোড়াই করছেন বলে মন্তব্য বিশ্লেষকদের।
সম্প্রতি জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর দেওয়া একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সাতকানিয়া উপজেলার চরতি এলাকায় গত ১৩ই নভেম্বর দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি নিজের পরিচয়, অতীত রাজনীতি এবং স্থানীয় সমর্থন নিয়ে একের পর এক উক্তি করেন, যা নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভিডিওটিতে শাহজাহান চৌধুরীকে বলতে শোনা যায়— ‘আমার নাম শাহজাহান চৌধুরী। আমি কিছু কিছু শুনছি। অনেকে নাকি উল্টাপাল্টা বলছে। খবরদার। খবরদার। খবরদার। আমি শাহজাহান চৌধুরী। আমাকে যারা চিনে নাই তারা এখনো পর্যন্ত মাটির তলে বসবাস করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার জন্য আল্লাহ আছে, আল্লাহ আছে, আল্লাহ আছে। আল্লাহর মেহেরবানি—আমার জন্য সূর্য থেমে থাকবে। আল্লাহ তায়ালা আমাকে এমন এক মর্যাদা দিয়েছেন। আপনারা দোয়া করবেন। আমার চোখের পানি বৃথা যায়নি। আমি চোখের পানি ফেললে লুলা হয়ে যাবে।’
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘আমার সাতকানিয়া–লোহাগাড়াবাসী, চরতিবাসী—এটা মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরীর জন্মস্থান। এই এলাকা মাওলানা চৌধুরীর এলাকা। আমি এই এলাকাকে সম্মান করি, এই এলাকার মাটিকেও সম্মান করি। এখানে কোনো রাজনীতি নেই, আর কোনো মার্কা নাই। আমার সাতকানিয়া–লোহাগাড়ার মার্কা একটা—সেটা হচ্ছে দাঁড়িপাল্লা।’
‘আমি বড় কষ্ট পেয়েছি। ১৮ বছরের মধ্যে নয় বছর জেল খেটেছি। আমি টাকা চাইনি, ধন–দৌলত চাইনি, পরিবার–পরিজন চাইনি। আমি আপনাদের দুয়ারে এসেছি। আমাদের জামায়াতে ইসলামী বড়ই নির্যাতিত–মজলুম। আমরা স্বার্থপর না। আমরা সম্পত্তির জন্য আসি না। আমি দুইবারের এমপি। এক কড়া জমিন এমপি হিসেবে নেইনি। আমি অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা রাখি নাই।’
এর আগে ২২শে নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে আরেক সমাবেশে প্রশাসন নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচিত হন শাহজাহান চৌধুরী। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন শুধু জনগণ দিয়ে নয়, যার যার নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসনের যারা আছে, তাদের সবাইকে আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে, আমাদের কথায় গ্রেপ্তার করবে, আমাদের কথায় মামলা করবে।’ তার এ বক্তব্য জামায়াতের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি করে।
এই ঘটনার পরপরই জামায়াতে ইসলামী তাকে শোকজ করে। দলীয় সূত্র জানায়—তিনি কেন এমন বক্তব্য দিয়েছেন, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে; ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
শাহজাহান চৌধুরীর কথাগুলো কী ঔদ্ধত্য, না কি অজ্ঞতা? না কি মূর্খতা?- এমন প্রশ্ন তোলেন সাংবাদিক মাসুদ কামাল।
এই বিষয় নিয়ে সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলও। জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘একটা মহল ধর্মের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। তারা বলে জামায়াতের টিকিট না কাটলে জান্নাতে যাওয়া যাবেনা। নাউজুবিল্লাহ্। আমরা মুসলমানরা এ কথা বিশ্বাস করতে পারিনা।’
জামায়াত প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আজকে এ দলটি সারা দেশে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে।’
এছাড়া আরও একটি ভিডিওতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মাসুদকে বলতে দেখা যায়, ‘আজকে কতজনকে বেহেশতের টিকিট দিলাম?’ উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে এ প্রশ্ন করলে ১০ থেকে ১২ জনকে হাত তুলতে দেখা যায় যায়।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, নারী ভোটারদের কাছে জামায়াতের এক কর্মী ভোট চেয়ে বলেন, ‘কোরানে জামায়াতের নাম আছে। এতোকাল তো নানা দলকে ভোট দিয়েছেন, এবার আল্লাহকে ভোট দেন।’
আরেক ভিডিওতে দেখা যায় জামায়াতের নারী কর্মীরা ভোট চাওয়ার সময় জিজ্ঞেস করছেন, ‘মৃত্যুর পরে আল্লাহ প্রথম প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবেন, কোন মার্কায় ভোট দিয়েছেন’।
ভোটের রাজনীতিতে ইসলাম ও আল্লাহকে ব্যবহারের সমালোচনা করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, ‘জামায়াতকে ভোট দেওয়া যাবে না। জামায়াত সরকারে আসতে পারলে কওমি, দেওবন্দি ও সুন্নিয়াত মাদ্রাসার অস্তিত্ব রাখবে না’।

