দিল্লি বৈঠকের মাত্র পাঁচ দিন পর খলিলুর রহমানের দোহা সফরঃ নতুন নির্দেশনা, নাকি অবহতিকরণ?

 দিল্লি বৈঠকের মাত্র পাঁচ দিন পর খলিলুর রহমানের দোহা সফরঃ নতুন নির্দেশনা, নাকি অবহতিকরণ?
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ২৫ নভেম্বর ২০২৫ঃ ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে নয়াদিল্লিতে বৈঠকের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) মার্কিন নাগরিক খলিলুর রহমান মঙ্গলবার কাতারের দোহার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এপ্রিল ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার দোহার চতুর্থ সফর।

নর্থইস্ট নিউজের হাতে আসা সরকারি নথি অনুযায়ী, খলিলুর রহমান ২৫ থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিন দোহায় অবস্থান করবেন। কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট কিউআর-৬৩৯-এ করে তিনি ঢাকা ছেড়েছেন এবং ২৮ নভেম্বর ঢাকায় ফিরবেন বলে জানা গেছে। সফরের অনুমোদনপত্র গত ২৪ নভেম্বর জারি করা হয়।

যদিও কার সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে তা সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি, বাংলাদেশের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, দোহায় তিনি সম্ভবত মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। গত আগস্টে বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তনের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। দোহা মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

গত ১৯ নভেম্বর দিল্লিতে দোভালের সঙ্গে বৈঠকে উত্তর বাংলাদেশের কিছু এলাকা থেকে পরিচালিত ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান হুমকিসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সূত্রের দাবি, ভারতীয় পক্ষ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী দুই-তিনটি জেলায় কমপক্ষে ১২টি জঙ্গি ক্যাম্পের অস্তিত্বের প্রমাণ দিয়েছে। চট্টগ্রাম পার্বত্য জেলা ও রংপুর বিভাগে এসব ক্যাম্প রয়েছে বলে জানানো হয়।

তবে এসব ক্যাম্প উচ্ছেদে বাংলাদেশি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ এখনো চোখে পড়েনি। যদিও গত ২৪ নভেম্বর ত্রিপুরা সংলগ্ন কুমিল্লা জেলায় একটি ক্যাম্প নিষ্ক্রিয় করতে অভিযান চালায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট। অনেকে মনে করছেন, দোভালের সতর্কবার্তার প্রভাবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

খলিলুর রহমানের দোহা সফর আরও রহস্যজনক করে তুলেছে পরিস্থিতি। এর আগে তিনবারই তিনি দোহায় গিয়েছেন এবং প্রতিবারই মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে, কিন্তু ঢাকা থেকে এসব সফরের ফলাফল নিয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য আসেনি।

  • প্রথম সফর: ২৬ মে ২০২৫, কাতার এয়ারওয়েজ কিউআর-৬৩৯, মার্কিন সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক।
  • দ্বিতীয় সফর: ২৬ জুলাই, দোহা হয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর।
  • তৃতীয় সফর: ২৮ আগস্ট, রোহিঙ্গা-রাখাইন মধ্যস্থতা কৌশল নিয়ে বৈঠকের কথা বলা হলেও পরদিনই ঢাকায় ফিরে পরে বেইজিং সফর।

এই ঘন ঘন দোহা সফর এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপনীয় বৈঠক নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে দিল্লির সঙ্গে জঙ্গি ক্যাম্প নিয়ে কথা বলার কয়েক দিনের মধ্যেই দোহায় মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন মোড় এনে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

Visited 163 times, 1 visit(s) today