প্রটোকল ভেঙে সেনাপ্রধানের হাত ধরে হাঁটা: সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে সমালোচনার ঝড়, নির্বাচনের আগে ইউনুসের পাবলিসিটি স্ট্যান্ট?

প্রটোকল ভেঙে সেনাপ্রধানের হাত ধরে হাঁটা: সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে সমালোচনার ঝড়, নির্বাচনের আগে ইউনুসের পাবলিসিটি স্ট্যান্ট?
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সাম্প্রতিক এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধানের হাত ধরে হাঁটার ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সেনানিবাসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের  একমাত্র আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

 

কিন্তু প্রটোকল ভেঙে সেনাপ্রধানের হাত ধরে ইয়ার-দোস্তের মতো হাঁটতে দেখা যাওয়ায় সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে এটাকে নির্বাচনের আগে লোক দেখানো আশ্বাস হিসেবে দেখছেন, যাতে প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঠান্ডা লড়াইয়ের অস্তিত্ব অস্বীকার করা যায়।

 

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের নিয়োগ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধানের মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই টানাপোড়েন চলছিল। খলিলুর রহমানকে প্রধান উপদেষ্টার প্রিয়পাত্র হিসেবে দেখা হলেও সেনাবাহিনীর তরফ থেকে তাকে যেকোনো সেনানিবাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। কিছুদিন আগে খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে একটি ‘সফট ক্যু’র চেষ্টা সেনাপ্রধানের সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ভেস্তে যায় বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

 

এই পটভূমিতে সেনানিবাসে সেনাপ্রধানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার এই ঘনিষ্ঠতা দেখে অনেকে মনে করছেন, এটি নির্বাচনের আগে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক দেখানোর একটি কৌশল। আবার কেউ কেউ এটাকে দীর্ঘদিনের ঠান্ডা লড়াই প্রশমিত করার প্রয়াস হিসেবে দেখছেন—সেনাপ্রধানকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা।

 

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব বা হাত ধরে হাঁটার মাধ্যমে হয় না—এটি দায়িত্ব, কর্মদক্ষতা, নীতি ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে আসে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি রাষ্ট্রের বার্তা বহন করে। অসুস্থতার অজুহাত থাকলেও নির্ধারিত নিরাপত্তা ও সহায়তার কাঠামো (এসএসএফ, প্রটোকল কর্মকর্তা ও চিকিৎসা সহায়তা) সর্বদা রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকে। সেই কাঠামো উপেক্ষা করে সেনাপ্রধানের হাত ধরে হাঁটা কেবল অপ্রয়োজনীয় নয়, বরং দায়িত্ববোধের ঘাটতি এবং প্রটোকল সচেতনতার অভাব প্রকাশ করে।

 

সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে এই ঘটনা নিয়ে সমালোচনা তীব্র। সামরিক বাহিনী রাষ্ট্রের শক্তি ও শৃঙ্খলার প্রতীক; তাকে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের মঞ্চে দেখা রাষ্ট্রীয় ইমেজকে দুর্বল করে। একটি ছবি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে—ক্ষমতার ভারসাম্য কোথায়, দায়িত্বের সীমা কতটা স্পষ্ট। জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্বের গভীরতা হাত ধরার মাধ্যমে নয়, কর্ম, দৃঢ়তা ও দায়িত্বপালনের মাধ্যমে প্রমাণ করা উচিত। রাষ্ট্রীয় শালীনতা মানে আবেগ দমন নয়, বরং তা পদ ও দায়িত্বের সীমার মধ্যে রাখা।

 

ভবিষ্যতে এমন মুহূর্ত থেকে সংযম দেখানো রাষ্ট্রের স্বার্থে অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনা প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধানের মধ্যকার সম্পর্কের গভীরতা বা টানাপোড়েন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, যা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

 

Visited 70 times, 1 visit(s) today