নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি: শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৫০-এর অধিক জামায়াত সমর্থক আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া খবরে দাবি করা হচ্ছে, এই সংঘর্ষের জের ধরে জামায়াত-শিবির কর্মীরা আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে তুলে নিয়ে গেছে।
গতকাল বিকেলে শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি সমর্থকরা বিলম্বে এসে চেয়ারে বসা নিয়ে বাক-বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। জামায়াতের দাবি অনুসারে, এরপর দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপি সন্ত্রাসীরা জামায়াত সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এতে ৫০-এর অধিক জামায়াত সমর্থক আহত হন।
তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ৯টা ২০ মিনিটে মাওলানা রেজাউল করিম শাহাদাতবরণ করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় উভয়পক্ষ থেকে পরস্পরকে দোষারোপ করে পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে যে, এই সংঘর্ষের জের ধরে জামায়াত-শিবির কর্মীরা বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে তুলে নিয়ে গেছে। তবে এ অভিযোগের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট এখনো প্রকাশিত হয়নি। পুলিশ বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ বা তদন্তের খবর পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। উভয় দলের নেতাকর্মীদের সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া অবাধ ও শান্তিপূর্ণ থাকে।
Visited 32 times, 1 visit(s) today
