রাজধানীতে ছাত্রলীগ নেতার সন্দেহজনক মৃত্যু: পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ পরিবারের

 রাজধানীতে ছাত্রলীগ নেতার সন্দেহজনক মৃত্যু: পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ পরিবারের
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ২৫ নভেম্বর ২০২৫: কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি আল আমিনকে আজ মধ্যে রাতের পরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে জানালার গ্রিলের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও, স্থানীয় সূত্র এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তথ্য থেকে জানা যায়, এটি সেই একই গোষ্ঠীর কাজ বলে মনে করা হচ্ছে, যারা ২০২৪ এর জুলাই থেকেই ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতা কর্মিদের টার্গেট কিলিং করছে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা হবে বলে জানিয়েছে।

মব ও টার্গেটেড কিলিং এর কারনে এমনিতেই ছাত্রলীগের সকল সাবেক ও বর্তমান সদস্যরা নিজ নিজ এলাকা ছাড়া। গত ক’মাস ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড চললেও, বর্তমানে এমন কোন কর্মসূচি ছাত্রলীগের ছিল না। অজানা অচেনা পরিবেশে লুকিয়ে থেকেও সাবেক ও পূর্বতন রাজনৈতিক পরিচয় লুকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছেনা আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মিদের। জুলাই হন্তারকরা লুকিয়ে থাকা এসব নেতাকর্মিদের ঠিকানা পেলেই মব নিয়ে আক্রমণ করছে, হত্যা করছে। আর লোকসমাগম বেশী হয়ে গেলে পুলিশে হস্তান্তর করছে। “রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ হলেই কি লীগের নেতাকর্মিরা হত্যাযোগ্য?” এমন প্রশ্ন উঠলেও, এর জবাব দেবার কেউ নেই।

আল আমিন (৩০), লাকসাম উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় নেতা ছিলেন, যিনি গতকাল রাত থেকে ঢাকায় ছিলেন। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি বসুন্ধরার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে (ব্লক-এ, রোড-১২) একা ছিলেন এবং সন্ধ্যা ৮টার দিকে তার ফোন সুইচ অফ হয়ে যায়। মধ্যরাতের দিকে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে প্রবেশকারী প্রতিবেশীরা তাকে জানালার গ্রিলে ঝোলানো অবস্থায় পান এবং ঘটনা জানান পুলিশকে।

বসুন্ধরা থানা উল্লেখ্য, আল আমিনের গলায় দড়ির চিহ্ন পাওয়া গেছে, কিন্তু শরীরে মারধরের বা অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই, যা সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

পরিবারের সূত্র থেকে জানা গেছে, আল আমিন গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে হুমকির সম্মুখীন হয়েছিলেন, বিশেষ করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাথে যুক্ততার কারণে। লাকসামে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছিল এবং স্থানীয় বিরোধী গোষ্ঠী তাকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করছিল বলে অভিযোগ।

তার ভাই মো. রেজাউল করিম বলেন,

“ভাইয়ের কোনো মানসিক সমস্যা ছিল না। সে ধার্মিক ছিল, হজ্ব করা। এটা স্পষ্ট হত্যা, আত্মহত্যা নয়। আমরা পুলিশের কাছে হত্যা মামলা দায়ের করব।”

লাকসাম ছাত্রলীগের সদস্যরা ঘটনায় শোক প্রকাশ করে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে, যদিও ইন্টেরিম সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করে ছাত্রলীগের সকল নেতা কর্মিদের পরোক্ষভাবে হত্যাযোগ্য করে দেয়া এবং আইনি সহয়তা ও মানবাধিকার কেড়ে নেয়ায় তারা সতর্কতার সাথে কথা বলছেন।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু ইউনূস বলেন, যে ভিডিও দেখছি, তাতে স্পষ্ট যে, রায়হানের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। রায়হানকে হত্যা করা হয়েছে। দড়িতে ঝুলন্ত দেহ, কিন্তু রায়হানের হাটু ফ্লোর ছুঁয়ে আছে। এটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানায় , “ঘটনাস্থলে ফরেনসিক টিম পাঠানো হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা চলছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু হত্যার কোনো সূত্র পেলে তদন্ত করা হবে।”

ঘটনার পর বসুন্ধরা এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের খোঁজ চলছে। রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে এই হত্যা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে রাজনৈতিক সহিংসতা ও হত্যায় নীরব ভুমিকা পালনের কারনে।

Visited 15 times, 1 visit(s) today