ড. মামুনুর রশীদ
উত্তরপূর্ব আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়া।
তেল, সোনা এবং মূল্যবান ধাতুর খনি আছে দেশটিতে। অনেকদিন ইতালির কলোনি থাকার পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘ প্রতিবেশী দেশ ইথিওপিয়ার সাথে কনফেডারেশন করে দেয়। দীর্ঘ ত্রিশ বছর যুদ্ধের পর ১৯৯১ সালে ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা পায়। কিন্তু ১৯৯৮ সাল থেকে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়।
২০১৮ সালে আবি আহমেদ ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন। ইরিত্রিয়ার সাথে সংঘাত বন্ধের জন্য একটা চুক্তির কারণে ২০১৯ সালে তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ইথিওপিয়ায় অনেকগুলো সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেন আবি। অনেক জাতীয় সম্পদ রাষ্ট্রের হাত ছাড়া হওয়ার সন্দেহ যখন শুরু হলো তখনই ২০২০ সালে “বেসামরিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে” টাইগ্রে এলাকায় নির্বিচারে গণহত্যা চালায় ইথিওপিয়া। ২০২০–২০২২ এই দুই বছরে টাইগ্রে এলাকায় মারা যায় ১৬০,০০০ থেকে ৬,০০,০০ মানুষ। বাস্তুহারা মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ৫০ লাখে। বেশিরভাগ মানুষ সুদানে আশ্রয় নেয়। টাইগ্রে সোনা এবং মূল্যবান জেমস্টোনের (সেফায়ার) খনির জন্য বিখ্যাত।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলা।
জুলাই–আগস্ট ২০২৪ সালে প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলে আসা সংঘাত নতুন করে দানা বাঁধে ভেনিজুয়েলায়। তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য নির্বাচনে দাড়িয়েছেন নিকোলাস মাদুরো। বিরোধীপক্ষে অন্য দলের সাথে ছিলেন মারিয়া কোরিনা মাচাদো। যদিও তাকে পরে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেল জিতেছেন মাচাদো।
সিএনএন এর অক্টোবর ১৫ এর রিপোর্ট অনুযায়ী মাচাদো মাদুরোকে পরাভূত করতে অনেক শক্তিশালী দেশের রাষ্ট্রপতির সাহায্য চেয়েছে। এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি তেল এবং গ্যাসের মজুদ আছে এই দেশে। সাথে আছে সোনা, আইরন ওরে, এবং বক্সাইটের মজুদ।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশ মিয়ানমার।
অনেকদিন সেনাশাসনে থাকার পর ২০১৬ সালে অং সান সু কির দল ক্ষমতায় যায় এবং সু কি স্টেট কাউন্সিলর নিযুক্ত হন। ক্ষমতায় যাওয়ার পরেই সংস্কারের নামে বিদেশি কোম্পানির জন্য দরজা খুলে দেন সু কি। বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার লোভ দেখানো হয়। খনিজের খোঁজে মুখিয়ে থাকা দেশগুলো ২০১৬–২০১৭ সালে মিয়ানমারকে তাদের প্রধান বিনিয়োগের গন্তব্য বলে চিহ্নিত করে। যুক্তরাজ্যের দা গার্ডিয়ান, রয়টার্স, এবং আল জাজিরার সংবাদ থেকে এই সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়।
১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পান সু কি। সু কি ক্ষমতায় থাকার সময়েই খনিজ সম্পদের দখল এবং সমুদ্রের সাথে সহজ যোগাযোগ স্থাপনে আরাকান অঞ্চলে চালানো হয় নির্মম হত্যাযজ্ঞ। ৭০০০ এর উপর রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যা এবং প্রায় ১০ লাখের উপর মানুষকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে তাদের আশ্রয় দেয় তখনকার বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর আবার সেনাশাসন ফিরে আসে মিয়ানমারে। গৃহবন্ধি হন সু কি। বিদেশি লগ্নি বন্ধ হয়ে যায়। আসে নতুন নতুন স্যাংশন।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই দেশে কি নেই? রেয়ার আর্থ ম্যাটেরিয়ালস (আরইই), বিশেষ করে ডিসপ্রোসিয়াম এবং টারবিয়াম, উৎপাদনে মিয়ানমার বিশ্বে শীর্ষস্থানে আছে। এগুলো বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং বাতাস চালিত টারবাইন উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। বুঝতে পারছেন বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষে থাকা দেশগুলো কেনো মিয়ানমার দখলে নিতে চায়।
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার এক চমক।
তিনটা কারণে বাংলাদেশকে বিশ্বের সবাই চিনতো:
১) প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের মৃত্যু এবং সম্পদের ধ্বংস,
২) তৈরি পোশাক খাত, এবং
৩) রেমিট্যান্স।
অনেকবার চেষ্টা করেও শেখ হাসিনার কাছ থেকে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের দখল নিতে পারেনি বিদেশি শক্তি। উত্থান হলো আরেক সু কির – ইউনুস। ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পান ইউনুস।
জুলাই–অগাস্টে সন্ত্রাসী হামলা করে বাংলাদেশের ক্ষমতা নিয়ে শুরু করেন সংস্কার। এক এক করে বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে থাকেন দেশের সকল লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এক বছরে হত্যা এবং ধর্ষণে মারা যায় ১০,০০০ এর মতো মানুষ – পুরুষ, নারী, বৃদ্ধ, এমনকি শিশু।
এখন দেখছি বিদেশীদের আসল উদ্দেশ্য দক্ষিণের সোনাদিয়ায় জমে যাওয়া রেয়ার আর্থ মেটেরিয়াল (আরইই)।
উপরের চারজন দেশ বিক্রির শর্তে পশ্চিমাদের আজ্ঞাবহ হয়েছিল, ক্ষমতায়িত হয়েছিল, এবং তাদের পিছনে অনেক বড় বিনিয়োগ করেছিল পশ্চিমা শক্তি। তাদের তৈরি করতে, গ্রহনযোগ্যতা বাড়াতে, এবং পাবলিক্যালি তাদের ক্লিন ইমেইজ সৃষ্টিতে দেয়া হয়েছিল “নোবেল শান্তি পুরষ্কার”।
একমাত্র “না” করেছিলেন বঙ্গবন্ধু কণ্যা, বিশ্বে সর্বোচ্চ সময় নারী সরকার প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করে এবং সবচেয়ে সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্যই ১৯ বার মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে আসা শেখ হাসিনা নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য অযোগ্য।
