নিজস্ব প্রতিবেদক
সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন সুনামগঞ্জের রাজনীতিতে ক্ষমতার সঙ্গে আঁতাত করে চলা ‘ওয়ান-ইলেভেন চেয়ারম্যান’ খ্যাত আনিসুল হক।
স্থানীয়রা জানান, কমরেড নজির হোসেনের বাজার সদাই করে রাজনীতিতে আসা আনিসুল দুই নেত্রী মাইনাস রাজনীতির রূপকার সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের ভাইয়ের সঙ্গে ওয়ান-ইলেভেনে ব্যবসায়িক অংশীদার হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ বাগিয়ে নেন। এরপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ক্ষমতাধরদের সঙ্গে আপোস করে চুটিয়ে ব্যবসা করেছেন। আওয়ামী লীগের সময় ব্যবসা করে অঢেল টাকা কামিয়েছেন গত ১৫ বছরে।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মোটা অংকের নির্বাচনী অনুদান দিয়ে আলোচনায় ছিলেন আনিসুল হক। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রণজিৎ সরকার ও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকেও নির্বাচনে খরচের জন্য মোটা অংকের অর্থ দেন। এর আগের নির্বাচনে মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের কার্যালয়ে গিয়ে তিনি অনুদানসহ নিয়মিত নির্বাচনী পরামর্শও দিতেন এর আগের নির্বাচনে।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নির্বাচনী এলাকার বালু পাথর মহাল ও কয়লাঘাট তার ভাই এনামুল হক ও আনোয়ারুল হককে প্রধান ভাগিদার করে ইজারা নিয়ে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি করছেন।
জাদুকাটা নদীর খতিয়ানে একাই দুই খতিয়ানের মালিক আনিসুল হক। তার ভাই আনোয়ারুল হক ডিবি কর্মকর্তা হারুনের ঘনিষ্ঠজন শাহ রুবেলের সঙ্গে জাদুকাটা নদী ইজারা নিয়ে নদীর তীর কেটে বালু লুট করছেন প্রকাশ্যে, জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা জানান, ৫ই আগস্টের পর তার ভাই এনামুল জনৈক ফারুকের নাম ব্যবহার করে বিআইডব্লিউটিএ’র নাম ভাঙিয়ে টোল-ট্যাক্স নিয়ে চাঁদাবাজি করেছেন, নৌকায় চাঁদাবাজি করছেন প্রকাশ্যে।
আনিসুলের ক্ষমতার প্রভাবে জাদুকাটা নদীসহ বিআইডব্লিউটিএর ঘাট লুটে খাচ্ছেন আনিসুলের দুই ভাই এনামুল ও আনোয়ারুল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
দলের দুঃসময়ে রাজপথ কাঁপানো নেতা কামরুজ্জামান কামরুলকে মনোনয়ন না দিয়ে সুবিধাবাদী আনিসুলকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে বিএনপির তৃণমূলে। তারা সুবিধাবাদী নেতা আনিসুলকে মনোনয়ন দেওয়ায় অসন্তোষ জানিয়েছেন।
ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তৎকালীন এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের নির্বাচনী কার্যালয়ে গিয়ে বৈঠকের ছবি ভাইরাল হয়েছে। সে সময় তিনি রতনের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন এবং মোটা অংকের আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।
জানা গেছে অতীতে দলের বিরুদ্ধাচারণ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে ২০১৯ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি বিএনপি থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া তার নারীসংক্রান্ত স্ক্যান্ডালও রয়েছে। এ কারণে ওই নারীকে তালাক দেন তার স্বামী। এই স্ক্যান্ডালের বিচারও করে দিয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট।
২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট রণজিৎ সরকার ও সাবেক আওয়ামী লীগের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকেও মোটা অংকের অনুদান দেন। কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, যিনি অতীতে দলীয় নির্দেশ অমান্য করে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বহিষ্কার হয়েছিলেন এবং ক্ষমতার সঙ্গে আপোস করে ব্যবসা বাণিজ্য করেছেন তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী নেতাকর্মীরা মর্মাহত হয়েছেন।
মধ্যনগর ১নং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোক্তার হোসেন বলেন, যারা অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে ব্যবসা করেছে, নির্বাচনে অনুদান দিয়েছেন তাদের বদলে দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করলে ভালো হতো। কিন্তু সুনামগঞ্জ-১ আসনে আমরা হতাশ হয়েছি। আশা করি চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকায় তৃণমূলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকে মূল্যায়ন করা হবে।
সাবেক এমপি নজির হোসেনের স্ত্রী সালমা নজির বলেন, আনিস আমাদের বাড়ির কাজ দেখাশোনা করতো। দীর্ঘদিন ধরে সে আওয়ামী লীগের প্রভাশালীদের সঙ্গে মিশে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে। সে প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়ায় দলের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা মর্মাহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে আনিসুল হকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
