দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ফিরে এসে প্রীতি ম্যাচে ৩-২ গোলে ব্রাজিলকে প্রথমবার হারিয়ে দিয়েছে জাপান। সিউলে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-০ গোলে হারানোর চার দিন পর এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
অথচ এই ম্যাচে প্রথমার্ধে ব্রাজিল খেলছিল দাপট দেখিয়ে, এগিয়ে ছিলো ২-০ গোলে। প্রথম একাদশে অনেকগুলো বদল নিয়ে নামে তারা। তাও এগিয়ে যেতে সমস্যা হয়নি। কিন্তু বিরতির পর তাকুমি মিনামিনো, কেইতো নাকামুরা এবং আয়াসে উয়েদার গোলে জাপান প্রায় ৪৫,০০০ দর্শকে ভরা গ্যালারিকে উন্মত্ত করে তোলে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ১৪ বারের প্রচেষ্টায় এটি ছিল জাপানের প্রথম জয়।
গত মে মাসে ইতালীয় কোচ কার্লো আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর বলিভিয়ার কাছে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১-০ গোলে হারের পর এটি ব্রাজিলের দ্বিতীয় পরাজয়। ব্রাজিল ও জাপান উভয় দলই আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের জন্য ইতোমধ্যে যোগ্যতা অর্জন করেছে। সেদিক থেকে একাদশে পরীক্ষা-নীরিক্ষার ম্যাচ হিসেবেই ধরা যায় একে।
দক্ষিণ কোরিয়াকে হারানো দল থেকে আনচেলত্তি তার একাদশে পরিবর্তন আনেন, সেই ম্যাচের জোড়া গোলদাতা এস্তেভাও এবং রদ্রিগোকে একাদশে শুরুতে নামাননি। ছিলেন না ম্যাথিউস কুনহাও। মার্টিনেল্লি এবং হেনরিক আক্রমণভাগে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের সঙ্গে যোগ দেন। ব্রাইটনের উইঙ্গার কাওরু মিতোমা এবং লিভারপুলের মিডফিল্ডার ওয়াতারু এন্ডো সহ বেশ কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে ছিল জাপানও।
ম্যাচের প্রথম আসল সুযোগে উয়েদা ব্যাক পোস্টে আসা একটি বিপজ্জনক বলের সাথে সংযোগ ঘটাতে ব্যর্থ হলে স্বাগতিকরা প্রায় এগিয়ে গিয়েছিল। একটি সুন্দর পাসিং মুভে হেনরিককে পরিষ্কার সুযোগ করে দিলে ব্রাজিল তার সুযোগ কাজে লাগায় এবং জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ ফরোয়ার্ড দুর্দান্তভাবে ফিনিশ করেন। কয়েক মিনিট পর লুকাস পাকেতা একটি চতুর চিপ পাসে মার্টিনেল্লিকে খুঁজে নিলে তিনি গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকিকে পরাস্ত করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
দ্বিতীয়ার্ধের সাত মিনিট পর ফ্যাব্রিজিও ব্রুনোর ভুলে বল পেয়ে মিনামিনো হুগো সুজাকে কাঁপিয়ে দিয়ে একটি গোল শোধ করেন। নাকামুরা ব্যাক পোস্টে বল জালে জড়ালে স্বাগতিকরা সমতা ফেরায়, যা ছিল দুর্ভাগ্যজনক ব্রুনোর একটি মারাত্মক ডিফ্লেকশন। উয়েদা এরপর ক্রসবারে বল মারার এক মিনিট পরেই বুলেট গতির হেডে জাপানকে এগিয়ে দেন। ব্রাজিল খেলায় ফেরার চেষ্টা করেছিল কিন্তু জাপান তাদের আক্রমণগুলি ভালোভাবে সামলে নেয় এবং উল্টো তাদের গোলের সংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারত।
