স্থানীয় সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ি এলাকার দখল নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। এসময় কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে রোকন বাহিনীর এক সদস্যকে। তবে এখন পর্যন্ত তার নাম জানা যায়নি।
আজ ৪ঠা অক্টোবর, শনিবার ভোরে জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগরে এ সংঘর্ষের ঘটনা শুরু হয়।
বিএনপিপন্থী রোকন বাহিনীর ১৫-২০ জনকে আজ রাত ১০টা পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আলিনগর এলাকা জামায়াতপন্থী মো. ইয়াছিনের লোকদের দখলে। শনিবার ভোরে উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রোকন উদ্দিন ও গোলাম গফুরের নেতৃত্বে সলিমপুর, ফৌজদারট, আল মদিনা, সিডিএ, ফকিরহাট, বাংলাবাজার, শেরশাহ এলাকার শতাধিক অস্ত্রধারী ওই এলাকা দখলে যায়। এ সময় ইয়াছিন বাহিনীর সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। হামলা চালায় যুবদল কর্মীদের ওপর।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। এতে অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে রোকন বাহিনীর এক সদস্যকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এছাড়াও দুর্গম এলাকায় চোরাগোপ্তা হামলায় অনেকেই মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে জানান স্থানীয়রা। রাত ১০টা পর্যন্ত এই বাহিনীর অন্তত ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
পুলিশের দাবি, গুলিবিদ্ধের সংখ্যা ১৩ জন। তারা হলেন– জাবেদ (৩৮), জাকির (৪৮), তানভীর (২৩), সিরাজুল ইসলাম (৪৩), ফজলুল করিম, ইসমাইল হোসেন বাবু (৩০), জাহিদুল ইসলাম (১৯), সৌরভ বড়ুয়া (১৭), মো. পারভেজ (২০), নুরুল আলম (৪০), শুক্কুর আলম (২২), রায়হান (১৮) ও শামীম (২৯)। তবে তাদের মধ্যে কে কোন বাহিনীর সদস্য সেই তথ্য জানা যায়নি।
হতাহতদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, পুলিশি ঝামেলার ভয়ে অনেকে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে রাত ৯টার দিকে কথা হয় উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোকন উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ভূমিদস্যু ইয়াছিনের লোকজন ছিন্নমূল এলাকা থেকে ১৫ জন বাসিন্দাকে ধরে নিয়ে বেদম মারধর করে। এতে একজন নিহত হন।
তবে এই ঘটনায় তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, যারা হামলার শিকার হয়েছেন, তারা বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত, এটা ঠিক।
ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সোহেল রানা বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশিয় এলজি, শটগানের ৮টি গুলি, ২টি পিস্তল, ম্যাগজিন, ১টি চাপাতি, ১টি হাতুড়ি ও পিস্তলের ৩টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
এখনো কোনো পক্ষের কাছ থেকে অভিযোগ মেলেনি, অভিযোগ পেলে মামলা নথিভুক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) লাবিব আবদুল্লাহ বলেন, দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন মারা গেছেন। তবে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গুলিবিদ্ধ ১৩ জনের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকিদের হদিস মিলছে না।
আওয়ামী লীগে নেতা ইউপি সদস্যের বাড়িতে লুটপাট
এদিকে সলিমপুর ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাতের বাড়ি ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ মিলেছে। বৃহস্পতিবার থেকে তার বাড়ির ভবন ভেঙে ইট, রড খুলে নিয়ে গেছে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের সন্ত্রাসীরা, শনিবার অভিযোগ করেছেন এই ইউপি সদস্য।
তিনি এ ঘটনার জন্য যুবদল নেতা রোকন ও তার বাহিনীকে দায়ী করে ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দিয়ে পরিবারকে রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা কামনা করেন।
