জেলা প্রতিনিধি
ফেসবুকে অশালীন ছবি শেয়ার করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের পালিশারা গ্রামে। এ ঘটনার ইন্ধনদাতা বিকৃত ছবি শেয়ারকারী জামায়াতের আমির হাফেজ ইলিয়াস হোসেনকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসাথে তার প্রাথমিক সদস্যপদও তিন মাসের জন্য মূলতবি করা হয়েছে।
গতকাল ৩রা অক্টোবর, শুক্রবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া।
তিনি জানান, হাফেজ ইলিয়াস হোসেনের সদস্য পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সেই সাথে তাকে ইউনিয়ন আমিরের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত দিয়েছেন জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, জানালেন তিনি।
শাহজাহান মিয়া এই অশালীন ছবি শেয়ারের ঘটনাটিকে ‘অসাবধানতাবশত’ বলে সাফাই গান। তিনি বলেন, হাফেজ ইলিয়াস হোসেনের ফেসবুক আইডি থেকে ‘অসাবধানতাবশত’ এই ছবি শেয়ার করা হয়। পরে আবার মুছেও ফেলা হয়।
ইলিয়াসের দায়মুক্তি দিতে গিয়ে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া ঘটনার দায় চাপান ইলিয়াসের শিশু সন্তানদের ঘাড়ে। তিনি বলেন, হাফেজ ইলিয়াস হোসেনের মোবাইল ফোনটি তার সন্তানরাও ব্যবহার করে। তারা অসাবধানতাবশত ছবিটি শেয়ার করে থাকতে পারে।
শাহজাহান আরও বলেন, এ ঘটনায় হাফেজ ইলিয়াস হোসেন দুঃখ প্রকাশ করেন। শুক্রবার সকালে বসে সমাধানের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়। ইউনিয়ন সভাপতির দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়ার পরও এ হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এর আগে শুক্রবার সকালে গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের পালিশারা গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, জামায়াত নেতা হাফেজ ইলিয়াস হোসেনের ফেসবুক আইডিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার অশ্লীল ছবি পোস্ট করেন। এ ঘটনার জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
