ফাইল বাসায় যায়, সাইন হয়না, উপদেষ্টা আসিফের প্রতি চসিক মেয়রের অভিযোগ

ফাইল বাসায় যায়, সাইন হয়না, উপদেষ্টা আসিফের প্রতি চসিক মেয়রের অভিযোগ
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক।

“মন্ত্রণালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল গায়েব হয়ে যায়। সেগুলো বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু সাইন হয় না- ”

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের(এলজিআরডি) উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে উদ্দেশ্যকরে এমন গুরুতর অভিযোগ আনেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সোমবার দুপুরে চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘পরিচ্ছন্নতা সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান ২০২৫’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।

মেয়র আরও অভিযোগ করে বলেন, পরিচ্ছন্ন নগরী নিশ্চিতে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহের যন্ত্রপাতি কেনার গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টের ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো হয়েছে। এরপরও কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি।

তিনি আরোও বলেন, তিনি বলেছেন,“আমাদের তিনটা প্রজেক্ট এখনো এলজিআরডি মিনিস্ট্রিতে আছে। অ্যাডভাইজার সাহেব এটা যখন দেখেন যে এটা একটা প্রজেক্ট, উনি ফাইলটা আর মিনিস্ট্রিতে রাখেন না, ঘরে নিয়ে যান।

“‘দিজ ইজ দ্য প্যাটিথিক সিনারিও দ্যাট উই আর ফেসিং নাও আ ডেইজ’। ফাইল আছে সবই আছে। খুব চমৎকারভাবে উনারা বাসায় নিয়ে যান। মিনিস্ট্রি থেকে ফাইল গায়েব হয়ে যায়। এটা আমার গত ১১ মাসের অভিজ্ঞতা।”

তিনি বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, “চারশ কোটি টাকার আমার যে ইন্সট্রুমেন্টের প্রজেক্ট, সেটা ফিন্যান্স মিনিস্ট্রিতে গিয়ে হয়ে গেল ২৯৮ কোটি টাকা। প্রায় একশ কোটি টাকা কেটে দিল।

“কেটে দিয়ে সেখানে বলে দিল, আমাদের ১৬০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে ৫ শতাংশ সুদে। আমরা একটা সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। শুধু ৬০ কোটি টাকা তারা আমাকে বরাদ্দ দেবে। বাকিটা সিটি করপোরেশনকে থেকে দিতে হবে।”

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন,  “এখানে যে উপদেষ্টাকে পাঠানো হল, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আমি উনার সঙ্গে অনেকবার কথা বলেছি। অনুরোধ করলাম। সবশেষে তিনি বললেন, প্রথমে জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান হয়ে যাক, তারপর আপনি সেটা পাবেন। আমার ৫০-৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতার সমস্যা ইতিমধ্যে সমাধান হয়েছে। এখনো আমি সেটা পাচ্ছি না। কাজেই কথা আমরা বলি, কিন্তু এখানে কথার পিছনে কথা থাকে।”

অনুষ্ঠানটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব, বিশেষ অতিথি ছিলেন কোরিয়ান ইপিজেড-এর চেয়ারম্যান ও সিইও কিহাক সুং, আরোও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টিরউপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম নুরুল আবসার,চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল করিম সহ অনেকে।

এরপর মেয়রকে উদ্দেশ্যে করে উপদেষ্টা মি.ফয়েজ তার বক্তব্যে বলেন – ” সিটি করপোরেশন যত বেশি সরকারের উপর নির্ভরশীল হয়ে যাবে তত সিটি গর্ভমেন্টের ধারণাও পিছিয়ে যাবে। প্রমাণ করতে হবে, সিটি নিজের আয়ে নিজে চলতে পারে। যখন নিজের পায়ে দাঁড়াবে তখন এই ভয়েসটা জোরালো হবে যে আমি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ হওয়া ডিজার্ব করি না।”

জলবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের যে উন্নয়নটা হয়েছে এবছর জলাবদ্ধতা থেকে। চট্টগ্রামের মানুষকে জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই দিতে পেরেছি। আমরা এ বছর গলা পরিমাণ পানি দেখিনি। আমি জানি না, আপনারা দেখেছেন কিনা।”

চসিকের সহযোগিতায় এবং সিআইইউ ও ইয়ংওয়ান করপোরেশনের যৌথ আয়োজনে এই সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল- “পরিচ্ছন্ন রাখি-চট্টগ্রাম নগরী”।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইইউ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম নুরুল আবসার।

Visited 9 times, 1 visit(s) today