আন্তর্জাতিক
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ডজনখানেক ট্যাঙ্ক ও সামরিক যান গাজা সিটির উত্তরাঞ্চলের শেখ রাদওয়ান এলাকায় প্রবেশ করেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর এই অগ্রযাত্রা দ্বিতীয় দিনের মতো স্থল অভিযানকে আরও তীব্র করেছে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ট্যাঙ্ক, বুলডোজার ও সাঁজোয়া যান এলাকাটির প্রান্ত দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। আকাশ জুড়ে ঘন ধোঁয়ার মেঘ, আর এর মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী গোলাবর্ষণ ও ধোঁয়া সৃষ্টিকারী বোমা ফেলছে।
শেখ রাদওয়ান একসময় হাজার হাজার মানুষের আবাসস্থল ছিল। গাজার সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল দখলে নিলে ইসরায়েলি সেনারা শহরের কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ পেয়ে যাবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ইসরায়েলের দাবি, এ অভিযানের মূল লক্ষ্য হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্ত করা এবং গাজা সিটিতে অবস্থিত প্রায় ৩,০০০ যোদ্ধাকে পরাস্ত করা। তবে এই অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা উঠেছে। ২০টিরও বেশি মানবাধিকার ও ত্রাণ সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “গাজার পরিস্থিতি অমানবিক এবং একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার ভোরে শুরু হওয়া প্রবল বিমান হামলার পর স্থল অভিযান শুরু হয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে দক্ষিণে পালিয়ে গেছেন। সড়কজুড়ে দীর্ঘ সারিতে গাড়ি, ট্রাক ও ঘোড়ার গাড়িতে মালপত্র বোঝাই করে মানুষজন দক্ষিণে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। যাতায়াত ব্যয় কয়েকশ শেকেলে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ৯০ হাজার মানুষ গাজা সিটি ছেড়ে গেছে। তবে এখনও প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সেখানে আটকে রয়েছেন।
হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় ৯৮ জন নিহত ও ৩৮৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া অপুষ্টিজনিত কারণে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, এ ধরনের অভিযান আরও তীব্র হলে গাজার বেসামরিক জনগণকে “আরও গভীর মানবিক বিপর্যয়ের” দিকে ঠেলে দেবে।
