“যারা ফ্যাশন সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তারাও জর্জিও আরমানির নাম জানেন”

“যারা ফ্যাশন সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তারাও জর্জিও আরমানির নাম জানেন”
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক

বিশ্বখ্যাত ইতালীয় ফ্যাশন ডিজাইনার ও বিলিয়নিয়ার ব্র্যান্ড মালিক জর্জিও আরমানি ৯১ বছর বয়সে পরলোকগমন করেছেন। তিনি ছিলেন ইতালীয় আভিজাত্য ও নান্দনিকতার প্রতীক, যিনি নারীদের ও পুরুষদের স্যুটকে নতুনভাবে কল্পনা করে আধুনিক রূপ দিয়েছিলেন।

১৯৭৫ সালে নিজস্ব ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার পর থেকে আরমানি শুধু পোশাকেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; তার সাম্রাজ্য প্রসারিত হয়েছে সৌন্দর্যপণ্য, সুগন্ধি, ক্রীড়া, সঙ্গীত এমনকি বিলাসবহুল হোটেল পর্যন্ত। প্রতি বছর তার কোম্পানির আয় হতো ২ বিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি।

ডোনাটেলা ভারসাচে শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন, “আজ বিশ্ব এক মহীরুহকে হারাল। তিনি ইতিহাস গড়েছেন এবং চিরদিন স্মরণীয় থাকবেন।”

ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আরমানি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাজ করে গেছেন—সংগ্রহ, নতুন প্রকল্প এবং কোম্পানির প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে। তারা তাকে আখ্যায়িত করেছে “অশেষ কৌতূহলী ও নিরলস কর্মী” হিসেবে।

হলিউডের অভিনেতা রাসেল ক্রো তাকে স্মরণ করে বলেছেন, “তিনি এমন এক মানুষ যিনি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ছাপ রেখেছেন।”

অভিনেত্রী জুলিয়া রবার্টস ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “একজন সত্যিকারের বন্ধু, একজন কিংবদন্তি।”

ব্রিটিশ ডিজাইনার পল স্মিথ বলেছেন, আরমানির নিরন্তরতা, বিনয় এবং স্বাধীন কোম্পানি হিসেবে টিকে থাকার ক্ষমতা তাকে ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এক শোকবার্তায় লিখেছেন, “তার সৃজনশীলতা ও রুচিশীলতার মাধ্যমে তিনি ইতালীয় ফ্যাশনকে বিশ্বদরবারে সম্মানিত করেছেন। তিনি ছিলেন ইতালির গর্ব।”

আরমানি ছিলেন রেড কার্পেট ফ্যাশনের পথিকৃৎ, যিনি লেডি গাগা থেকে শুরু করে জুলিয়া রবার্টস, কেট ব্ল্যানচেটসহ অসংখ্য তারকার পোশাক ডিজাইন করেছেন।

জীবন সায়াহ্নে এসেও তিনি নিয়মিত নতুন সংগ্রহ উপস্থাপন করতেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে প্যারিসে অনুষ্ঠিত শো তিনি দূর থেকে পরিচালনা করেছিলেন।

ভোগ ম্যাগাজিনের লরা ইনঘ্যাম তাকে আখ্যায়িত করেছেন “সত্যিকারের ভদ্রলোক এবং শিল্পের এক মহীরুহ” হিসেবে। তিনি বলেন, “যারা ফ্যাশন সম্পর্কে কিছুই জানেন না, তারাও জর্জিও আরমানির নাম জানেন।”

চিকিৎসা থেকে ফ্যাশনে যাত্রা শুরু করে আরমানি আজ এক শাশ্বত উত্তরাধিকার রেখে গেলেন—যেখানে নিখুঁত কাটছাঁট ও কালজয়ী সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত থাকবে তার নাম।

Visited 14 times, 1 visit(s) today