❐ জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন দাবি করেছেন, ছাত্রলীগের ক্যাডাররা হেলমেট পরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেরেছে।
তিনি বলেন, আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে কথা বলেছি, কিন্তু এখনো আমাদের পাশে কেউ নেই।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো সহায়তা না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে এসব কথা বলেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হাস্যরসের পাশাপাশি তীব্র সমালোচনাও করেন নেটিজেনরা।
ভিডিওতে উপ-উপাচার্য বলছিলেন, আমি কম্পারেটিভলি ভালো আছি। আমার ছাত্ররা সবচেয়ে বেশি আহত। আমরা এখন পর্যন্ত আর্মি-বিজিবির কোনো সাহায্য পাচ্ছি না। ছাত্রদের তারা দা দিয়ে কোপাচ্ছে। এটা কোন জগতে আছি আমরা। আমাদের ছাত্রদের উদ্ধার করুন। আমাদের প্রক্টর, প্রো-ভিসি আহত, প্রায় সব শিক্ষক-ছাত্র আহত। আমরা মেডিক্যালে জায়গা দিতে পারছি না।
কেঁদে কেঁদে তিনি আরো বলেন, আমি হাত জোড় করে ক্ষমা চাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা তোমরা শান্ত হও, এলাকাবাসী আপনারা শান্ত হোন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এত বছর আছি, এই গ্রামের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক ছিল। এটা অন্য একটি কুচক্রি মহলের ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটেছে। এই গেমে কেউ হাত দিও না।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এ ঘটনার বিচার হবে।
চবির দুই শিবির কর্মীকে কুপিয়ে ছাদ থেকে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ
গুপ্ত সংগঠন ছাত্রশিবিরের কয়েকজন কর্মীকে কুপিয়ে ছাদ থেকে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, অন্তত দুজন শিবির কর্মীকে ভবনের ছাদে কুপিয়ে সেখান থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া দুই ছাত্রের একজনের নাম রাজিউর রহমান রাজু। তিনি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, তবে বিভাগের নাম জানা যায়নি। আরেকজনের নাম-পরিচয় এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।
কারা এমন কাজ করেছে, কোনো শিক্ষার্থীই বলতে পারছেন না। শিবির কর্মীরা ছাত্রলীগের দিকে ইঙ্গিত করলেও তা ধোপে টিকছে না, কারণ গত এক বছর ধরে ছাত্রলীগে সম্পৃক্ত কেউই ক্যাম্পাসে নেই। অনেককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। অনেকেই কারাভোগ করছেন, বহিষ্কৃত হয়েছেন সবাই। তাই এমন ঘটনার পেছনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাত থাকতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
