নিজস্ব প্রতিবেদক।
ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০২৫, বৃহস্পতিবার: কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে আবারও একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা গত আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে কারাগারে ২৯তম হত্যাকাণ্ড হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। এবারের শিকার সাভার পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সক্রিয় কর্মী ও সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ শরীফ আহমেদ। অভিযোগ উঠেছে, তাকে কারাগারে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।
তথ্যসুত্রে জানা যায় গত ১৭ আগস্ট কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে শরীফ আহমেদকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। তার মরদেহ মর্গে রাখা হয় এবং পরদিন ১৮ আগস্ট পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে কারাগারে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে চলেছে। বিডিডাইজেশ্ত সহ বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশনা সুত্রে, এই পর্যন্ত ২৯ জন কারাবন্দী অস্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন।
কারাগারে বন্দীদের উপর নির্যাতন ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কারা কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। শরীফ আহমেদের ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে, তাকে কোনো মামলা ছাড়াই আটক করা হয় এবং রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। এই ধরনের ঘটনা কারাগারের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির চিত্র তুলে ধরে। বিশেষ করে, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে নির্যাতনের অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
কারাগারে বারবার অস্বাভাবিক মৃত্যু জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। এই ঘটনাগুলো কারা ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলো এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে। শরীফ আহমেদের মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, যেখানে অনেকে কারাগারে বন্দীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন।
কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে শরীফ আহমেদের মৃত্যু কারাগারে চলমান নির্যাতন ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ধারাবাহিকতার আরেকটি মর্মান্তিক উদাহরণ। এই ঘটনা কারা ব্যবস্থাপনায় সংস্কার, স্বচ্ছ তদন্ত এবং মানবাধিকার সুরক্ষার জরুরি প্রয়োজনীয়তার দিকে ইঙ্গিত করে। অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা না হলে জনমনে অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।
