চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধ মেটাতে দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধ মেটাতে দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
শেয়ার করুন

নয়াদিল্লী প্রতিনিধি।

নয়াদিল্লী, ২০ আগস্ট ২০২৫, বুধবারঃ দিল্লিতে মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোবালের মধ্যে ২৪তম রাউন্ডের সীমান্ত ও বিশেষ প্রতিনিধি স্তরের আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে, যা ২০০৩ সালে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর উদ্যোগে শুরু হয়েছিল।

এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে চলা চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধ নিরসন এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার। উভয় পক্ষই রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক চিত্র বিবেচনা করে ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত এবং পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে।

আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ চারটি বিষয়ে সম্মতি গড়ে উঠেছে।

প্রথমত, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণকে নিয়মিত করার জন্য নতুন প্রক্রিয়া চালু করা হবে, যা লাদাখে সফলভাবে প্রয়োগ করা সাধারণ-স্তরের সংযোগ মডেলকে মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় খাতে বিস্তার করবে।

দ্বিতীয়ত, সংঘর্ষ কমানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয়ত, সংবেদনশীল বিন্দুগুলো যথাযথভাবে পরিচালনা করা এবং সীমান্ত চিহ্নিতকরণের জন্য শর্ত সুবিধাজনক হলে আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চতুর্থত, লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) জুড়ে বাকি বিষয়গুলোর সমাধানে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই আলোচনা ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর থেকে উভয় দেশের সম্পর্কে সৃষ্ট বিশ্বাসহীনতা কাটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ চেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্ত বিরোধের গভীর জটিলতা বিবেচনা করে এই সম্মতি শুধুমাত্র একটি শুরुआত, এবং পূর্ণাঙ্গ সমাধানে আরও বহুমুখী কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশল প্রয়োজন হবে। চীনী পক্ষ সীমান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখার জন্য সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে ভারতীয় পক্ষ এই প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে সতর্ক রয়েছে।

Visited 9 times, 1 visit(s) today