বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূসের পড়া ‘জুলাই ঘোষণা’ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ডেভিড বার্গম্যান নামে একজন পর্যবেক্ষক এই ঘোষণাকে অত্যন্ত একপেশে এবং রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতমূলক বলে বর্ণনা করেছেন।
তিনি মনে করেন, এই ঘোষণাপত্রে আওয়ামী লীগের শাসনামলের একটি পক্ষপাতদুষ্ট ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে, যা দেশের সংবিধানের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে ড. ইউনূসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যিনি ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সময় একজন নিরপেক্ষ ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন।
বার্গম্যানের মতে, জুলাই ঘোষণায় আওয়ামী লীগের শাসনামলকে (২০০৯-২০২৪) সম্পূর্ণ একপেশে ও নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগকে “জনবিরোধী”, “স্বৈরাচারী”, “মানবাধিকারবিরোধী” এবং “দুর্নীতিগ্রস্ত” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তবে, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আওয়ামী লীগের শাসনকালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নারী শিক্ষা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য সাফল্যও অর্জিত হয়েছিল, যা ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি।
ঘোষণায় ১৯৭২-১৯৭৫ সালের আওয়ামী লীগের শাসনামলকে শুধুমাত্র একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে, যুদ্ধোত্তর জাতিগঠনের প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এছাড়া, ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিব ও তাঁর পরিবারের ১৬ সদস্যের হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সামরিক শাসনের বিষয়টিও বাদ দেওয়া হয়েছে। ১৯৭৫-১৯৮২ সালের জিয়াউর রহমানের শাসনকালকে “জনগণের অংশগ্রহণে সেনা বিদ্রোহ” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বিএনপির পক্ষে একটি পক্ষপাতমূলক বর্ণনা।
বার্গম্যান আরও উল্লেখ করেছেন যে, ২০০৭ সালের ‘১/১১’ ঘটনাকে ঘোষণায় “ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিএনপি সরকারের নির্বাচন কারচুপির প্রচেষ্টা বন্ধ করতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের ফল ছিল। এছাড়া, ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার বিষয়টি উল্লেখ না করে এটিকে স্বৈরাচারী শাসনের সূচনা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
ঘোষণায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র ও জনগণের জন্য আইনি সুরক্ষার কথা বলা হলেও, এটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশ সদস্যদের হত্যার ঘটনায় জড়িতদের জন্যও দায়মুক্তি দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়, যা আইনের শাসনের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।
বার্গম্যান মনে করেন, এই ঘোষণাপত্র সংক্ষিপ্ত ও নিরপেক্ষ হওয়া উচিত ছিল।
তিনি বলেন, এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাদে অন্যান্য রাজনৈতিক ইতিহাস বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের ক্রমবর্ধমান স্বৈরাচার এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিষয়ে মনোনিবেশ করা উচিত ছিল। ড. ইউনূসের এই ঘোষণায় স্বাক্ষর করা তার নিরপেক্ষ ইমেজের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং ভবিষ্যতে তার খ্যাতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই ঘোষণা এবং এর সমালোচনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
