নিরাপত্তারক্ষীসহ ৮ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে
সংবাদ প্রতিবেদন
নাটোরের হুগলবাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত নাটোর সুগার মিলস লিমিটেডে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
গত রাত সাড়ে ৩টার দিকে মুখোশধারী একদল সশস্ত্র ডাকাত মিলের কারখানায় হামলা চালিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের হাত-পা বেঁধে প্রায় এক কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে যায়।
চিনিকল সূত্র জানায়, রাত দেড়টা থেকে ভোর পর্যন্ত প্রায় ২০-৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ট্রাকসহ কারখানায় প্রবেশ করে। এ সময় প্রবল বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাত চলছিল। ডাকাতরা মিলের ১২ জন নিরাপত্তাকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বয়লার সেকশনের একটি কক্ষে হাত-পা বেঁধে রাখে এবং একাধিক সেকশন থেকে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ, যন্ত্রের খুচরা অংশ, বৈদ্যুতিক তার, সিরাপ পাইপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়।
চিনিকল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডাকাতদের লুট করা মালামালের মধ্যে রয়েছে বেয়ারিং, ওয়েল্ডিং ক্যাবল, পাম্পের যন্ত্রাংশ, শ্যাফট, ফিটিং বুশ, রোটর ব্রাশ, ইলেকট্রিক তারসহ বিভিন্ন দামী যন্ত্রাংশ। ডাকাতরা কারখানার ইলেকট্রিশিয়ান রুমেও ভাঙচুর চালায় এবং আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ভোরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অন্য একটি দল এসে জিম্মিদের উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে নাটোর সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে।
চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখলাছুর রহমান বলেন, “২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল পরিকল্পিতভাবে এই ডাকাতি ঘটিয়েছে। অস্ত্রের মুখে নিরাপত্তারক্ষীদের বেঁধে মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কী কী মালামাল লুট হয়েছে, তা নির্ধারণে কাজ চলছে।”
নাটোর সদর থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে বড় ধরনের লুটপাটের আলামত মিলেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং লুট হওয়া মালপত্রের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, “চিনিকলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আটজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।”
ডাকাতির ঘটনায় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) ফেরদৌসুল আলমকে। কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে মিল কর্তৃপক্ষ।
