ট্রাম্পের নির্দেশে দুই নিউক্লিয়ার সাবমেরিন রাশিয়ার দিকে, রুশ নেতার মন্তব্যে ক্ষোভ

ট্রাম্পের নির্দেশে দুই নিউক্লিয়ার সাবমেরিন রাশিয়ার দিকে, রুশ নেতার মন্তব্যে ক্ষোভ
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভের “অত্যন্ত উস্কানিমূলক” মন্তব্যের জবাবে দুটি নিউক্লিয়ার সাবমেরিন “উপযুক্ত অঞ্চলে” মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, “মেদভেদেভের এই মূর্খ এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য যদি কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, তবে সতর্কতার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শব্দের গুরুত্ব অনেক এবং এটি অনিচ্ছাকৃত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। আশা করি, এটি তেমন কিছু হবে না।”

ট্রাম্প এই সাবমেরিনগুলোর অবস্থান বা এগুলো নিউক্লিয়ার অস্ত্রবাহী নাকি নিউক্লিয়ার শক্তিচালিত, তা স্পষ্ট করেননি। তবে এই ঘোষণা মার্কিন-রুশ সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়। মেদভেদেভ, যিনি বর্তমানে রাশিয়ার সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান, ট্রাম্পের ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য রাশিয়ার প্রতি দেওয়া ১০ দিনের সময়সীমা এবং নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকিকে “যুদ্ধের দিকে পদক্ষেপ” বলে সমালোচনা করেছিলেন।

তিনি বৃহস্পতিবার টেলিগ্রামে লিখেছেন, “ট্রাম্পের হুমকি যদি আমার কথায় এতটা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, তবে রাশিয়া ঠিক পথেই আছে।” তিনি রাশিয়ার সোভিয়েত-যুগের স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক হামলার ব্যবস্থা ‘ডেড হ্যান্ড’-এর কথাও উল্লেখ করেন।

ভারতের প্রতি ট্রাম্পের ক্ষোভ

এদিকে, ট্রাম্প ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি একটি টুইটে অভিযোগ করেছেন যে, ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় মোদি তার প্রস্তাবিত মধ্যস্থতা এবং বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে যথাযথ সাড়া না দিয়ে অসম্মান দেখিয়েছেন।

ট্রাম্প লিখেছেন, “মোদি আমাকে অসম্মান করেছেন, এটা কখনো ভোলা যাবে না। খারাপ ব্যবসা মানেই খারাপ বন্ধুত্ব।”

তিনি ভারতের বিরুদ্ধে ২৫% শুল্ক আরোপ এবং ভারত-রাশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য অতিরিক্ত জরিমানার হুমকি দিয়েছেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “ভারত কখনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা গ্রহণ করে না। ভারত-পাকিস্তান ইস্যু দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধান করা হবে।”

মোদি ট্রাম্পকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় কোনো বাণিজ্য চুক্তি বা মধ্যস্থতার আলোচনা হয়নি।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এটিকে “কূটনৈতিক বিপর্যয়” বলে সমালোচনা করেছেন।

বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা কংগ্রেসের সমালোচনাকে “মিথ্যা প্রচার” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এবং মন্তব্য মার্কিন-রুশ এবং মার্কিন-ভারত সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। ভারতের অর্থনীতি অভ্যন্তরীণ চাহিদার উপর নির্ভরশীল হলেও, শুল্ক আরোপের প্রভাব সীমিত হতে পারে।

তবে, ট্রাম্পের “খারাপ বন্ধুত্ব” এবং রাশিয়ার প্রতি সামরিক পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ কূটনীতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

Visited 5 times, 1 visit(s) today