নিজস্ব প্রতিবেদক
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে সাড়ে ৬ কোটি টাকার পাচারের যে অভিযোগ উঠেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও তার ভাই এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম মাহির বিরুদ্ধে, তাকে গুজব বলে দাবি করেছেন তারা। অভিযোগটি করেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম বড় সমর্থক এবং অস্ট্রেলিয়া নিবাসী অ্যাক্টিভিস্ট বনি আমিন।
গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বনি আমিন এই অভিযোগ করেন। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
বনি আমিন বলেন, মাহফুজ আলমের ভাই মাহবুব আলমের অস্ট্রেলিয়ান ব্যাংক একাউন্টে সাড়ে ৬ কোটি টাকার একটি লেনদেন নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা (অস্ট্রেলিয়ান ট্রানজেকশন রিপোর্টস অ্যান্ড অ্যানালাইসিস সেন্টার) তদন্ত শুরু করেছে। এই অর্থ কিছু লবিং ও ফাইলিংয়ের মাধ্যমে পাওয়া ‘কমিশন ভিত্তিক হিস্যা’।
তার অভিযোগ, মাহফুজ সরকারি প্রজেক্টে প্রভাব খাটিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ভাইয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচার করছেন।
এদিকে, মাহফুজ ও তার ভাই দুইজনই এ ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
মাহি বলেন, একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে আমার বিরুদ্ধে আর্থিক অস্বচ্ছতার গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমার একাউন্টে গত ৬ মাসের বিবরণী এখানে দেওয়া হলো। আমার একাউন্টটি এখনো সচল আছে। বনি আমিন নামক ব্যক্তি ও কিছু মিডিয়ার প্রচারিত তথ্য আসলে মিথ্যা বৈ কিছু নয়। আমি অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলাম। অস্ট্রেলিয়ার একাউন্টটি ২৩ সাল থেকে খোলা।
তার দাবি, তিনি এবং তার ভাই কোন তদবিরের কাজ করেননি। পারিবারিক ব্যবসায় জড়িত তারা ৩০ বছর ধরে। গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগের কারণে তারা ব্যবসাও করতে পারেননি। বাবার ব্যবসা দুই ভাই মিলে পরিচালনা করেন, এর বাইরে তাদের কোনো আর্থিক উৎস নেই বলেও দাবি করেন।
ফেসবুক পোস্টে মাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন বনি আমিন যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চায় তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
মাহির পোস্ট শেয়ার করে উপদেষ্টা মাহফুজ লেখেন, আমাদের এক বন্ধু এক ব্যক্তিকে আমার ভাইয়ার সঙ্গে দেখা করায়। বিটিভির এক টেন্ডারের কাজ করে দিলে পার্সেন্টেজ দিবে এবং জুলাইয়ের কিছু প্রোগ্রামে হেল্প করবে। জেনে এটা নিষেধ করে দেই।
মাহফুজের দাবি, ওই ব্যক্তি তাদের ফোনালাপ রেকর্ড করে এক সাংবাদিককে পাঠালে তিনি মাহফুজকে জানিয়ে দেন। তখন মাহফুজ তাকে বলেন তার কাজ না হওয়ায় তিনি ফাঁসানোর জন্যই এটা করেছেন। সেটা জেনে ওই সাংবাদিক আর বিষয়টি নিয়ে সংবাদ করেননি।
মাহফুজ বলেন, আজকাল অনেকের লেজকাটা যাচ্ছে বলে আমার বিরুদ্ধে লেগেছে। বিভিন্ন দলের কয়েকজন মহারথী এতে জড়িত। সব ষড়যন্ত্রই প্রকাশ পাবে।
