কঙ্গোতে আইএস জঙ্গি সমর্থিত বিদ্রোহীদের হামলায় কমপক্ষে ৩৪ জন নিহত

কঙ্গোতে আইএস জঙ্গি সমর্থিত বিদ্রোহীদের হামলায় কমপক্ষে ৩৪ জন নিহত
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক

পূর্ব কঙ্গোর কোমান্ডা শহরের একটি ক্যাথলিক গির্জায় ইসলামিক স্টেট (আইএস)-সমর্থিত বিদ্রোহীদের বর্বর হামলায় অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। হামলার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে ইউগান্ডাভিত্তিক ইসলামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠী অ্যালাইড ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (ADF)-কে।

স্থানীয় বেসামরিক সমাজের নেতা দিয়ুদোনে দুরানথাবো বলেন, “নিহতদের মরদেহ এখনও গির্জার চত্বরে রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের একটি গণকবরে সমাহিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এই শহরে যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী সবসময় মোতায়েন, সেখানে এমন হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা অবিলম্বে সামরিক হস্তক্ষেপ দাবি করছি, কারণ জানা গেছে হামলাকারীরা এখনো কাছাকাছি অবস্থান করছে।”

রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, এই হামলায় ৩৮ জন নিহত, ১৫ জন আহত এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।

মানবাধিকার কর্মী ক্রিস্টোফ মুয়ানইয়ান্দেরু জানান, হামলাটি রাতে ঘটে। প্রথমে স্থানীয়রা ভেবেছিলেন এটি চোরদের কাজ। পরে জানা যায়, গির্জায় রাত কাটানো খ্রিস্টানদের ওপরই মূলত হামলা চালানো হয়েছে। অনেককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

এর আগে, আশেপাশের মাচোঙ্গানি গ্রামেও একটি হামলায় আরও পাঁচজন নিহত হয়। এই গ্রাম থেকেও বেশ কয়েকজনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে ইউগান্ডার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির বিরুদ্ধে অসন্তোষ থেকে বিভিন্ন ছোট গোষ্ঠী মিলে গঠন করে ADF। ২০০২ সালে ইউগান্ডার সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে গোষ্ঠীটি কঙ্গোতে স্থানান্তরিত হয় এবং এরপর থেকে তারা হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক হত্যার জন্য দায়ী।

২০১৮ সালের শেষ দিকে ADF-এর সঙ্গে ইসলামিক স্টেটের সংযোগ স্থাপিত হয় বলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০১৯ সালের সন্ত্রাসবাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পুরো ইতুরি প্রদেশে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারীদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

Visited 7 times, 1 visit(s) today