আন্তর্জাতিক
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সাম্প্রতিক উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘অ্যামেরিকা পার্টি’ আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। গত শনিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তার মাধ্যমে এই নতুন দল গঠনের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের বিতর্কের পর বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই নতুন রাজনৈতিক দল মার্কিন ধনকুবেরদ ছাড়াও সাধারণ নাগরিকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এর ফলে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বার্থের নতুন দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ঘটতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইতিমধ্যে মার্কিন ধনকুবের মার্ক কিউবান এবং অ্যান্থনি স্কারামুচি এই নতুন দলের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কিউবান এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীও মাস্কের সঙ্গে সহযোগিতার ইচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, তিনি তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় কাজ করতে আগ্রহী।
অন্যদিকে, একসময় ট্রাম্পের প্রশাসনে কাজ করা স্কারমুচিও নতুন দল প্রসঙ্গে মাস্কের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন।
তবে সব মার্কিন বিলিওনিয়ারই এই নতুন দলের সমর্থক নন। রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক কৌশলগত বিশেষজ্ঞ রজার স্টোন এই দলের সমালোচনা করে বলেছেন যে এটি নির্বাচনে বিভাজন ঘটিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সুবিধা দিতে পারে।
রজার স্টোন এসময় মাস্ককে বরং সংস্কারবাদী হয়ে রিপাবলিকান পার্টির পথে হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন।
সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে নতুন এই দলের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে, বিশেষত মাস্কের এক্সে গত ৪ঠা জুলাই-এর একটি পোলের মাধ্যমে। প্রায় ১.২৫ মিলিয়ন লোকের মধ্যে ৬৫% ভোটদাতা নতুন দলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, যা মাস্ককে এই পদক্ষেপে উৎসাহিত করেছে।
তবে একইসঙ্গে অনেকে এই দলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করছেন, কারণ ঐতিহ্যগতভাবে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির দ্বি-দলীয় ব্যবস্থার বাইরে তৃতীয় কোনো দল সফল হতে পারেনি।
এক সাম্প্রতিক জরিপ বলছে ৪০% নিবন্ধিত ভোটার নতুন দলের প্রতি আগ্রহী। তবে এটি রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটদের ভোট কেটে নিতে পারে বলে উদ্বেগও রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাস্কের বিপুল সম্পদ এই রাজনৈতিক উদ্যোগকে সফল করতে পারে। কিন্তু নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জটিল প্রাদেশিক আইন, ভোট কাস্টের নিয়ম এবং রাজনৈতিক সমীকরণ তার এই প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
মাস্কের পরিকল্পনা রয়েছে, ২০২৬-এর মধ্যবর্তী নির্বাচনে ২-৩ সিনেট আসন ও ৮-১০ হাউজ জেলায় তার দলের প্রতি ভোটারদের আগ্রহ তৈরি করা। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এই পদক্ষেপকে “হাস্যকর” ও “বিভ্রান্তিকর” বলে অভিহিত করে সমালোচনা করেছেন। এতে নতুন দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইলন মাস্কের এই নতুন রাজনৈতিক দলের সূচনার সঙ্গে মার্কিন ধনকুবেরদের করফাঁকি এবং জনগণের মধ্যে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও, ‘অ্যামেরিকা পার্টি’ মার্কিন রাজনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলাফল কী হবে, তা ২০২৬-এর নির্বাচনে পরিষ্কার হবে।
