জামিন পেয়ে পরীক্ষার আবেদন করতে এসে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের মব সন্ত্রাসের শিকার ছাত্রলীগ নেতা

জামিন পেয়ে পরীক্ষার আবেদন করতে এসে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের মব সন্ত্রাসের শিকার ছাত্রলীগ নেতা
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রিটেক পরীক্ষার আবেদন করতে এসে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মব সন্ত্রাসের শিকার হলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রলীগের এক নেতা।

৩রা জুলাই, বৃহস্পতিবার রিটেক পরীক্ষার আবেদন করতে আসলে তাকে ঘিরে ফেলে ছাত্রদলের মব সন্ত্রাসীরা। পরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এদিকে, ৪ঠা জুলাই, শুক্রবার ছিল তার বিয়ের দিন।

আটক হওয়া শিক্ষার্থীর নাম শরিফুল ইসলাম সাজিদ। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিভাগের ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের ব্যাংকপাড়া এলাকায়।

জানা গেছে, একটি মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবার পড়াশোনায় ফিরতে চাচ্ছিলেন। নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে রিটেক পরীক্ষার আবেদন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ঠিক এমন একটি দিনে, যেটি তার ব্যক্তিজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন—বিয়ের আগের দিন।

তবে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের মব সন্ত্রাসী নেতাকর্মীরা সাজিদকে দেখেই তাকে ঘিরে ফেলেন। তারা দাবি করেন, তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি ‘নিষিদ্ধ’ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত। ধস্তাধস্তির সময় একাধিক শিক্ষার্থী আহত হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান সজীব বলেন, “আমরা খবর পাই সে ক্যাম্পাসে এসেছে। এরপর আমরা গিয়ে তাকে আটকে দিই। তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে।”

ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম সাজিদ।

ছাত্রদলের মব সন্ত্রাসীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাজিদ ইসলাম নামের এক ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করে লেখা হয়— ‘কাল থেকে একদল তরুণের প্রবেশ হবে যাদের হারানোর কিছুই নেই, না একটা গোছানো রুম, না সম্মান, না বন্ধু, না কোনো আপনজন, না সার্টিফিকেট। কিছুই নেই, নেই ভয়, নেই লজ্জা, নেই আবেগ, নেই দরদ। তারা হবে নির্ভীক, তারা হবে ভয়ংকর সুন্দর!’

তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন শরিফুল ইসলাম সাজিদ। তিনি বলেন, আমি কোনো ধরনের উস্কানিমূলক পোস্ট করিনি। যে ফেসবুক আইডির কথা বলা হচ্ছে, তা আমার নয়। আগামীকাল আমার বিয়ে, তাই আগামী সপ্তাহে ক্যাম্পাসে আসা সম্ভব হবে না ভেবেই আজ রিটেক পরীক্ষার আবেদন করতে এসেছিলাম।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল হক বলেন, ‘আমরা তদন্ত করে দেখব, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না। যদি থাকে, তাহলে তাকে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আর যদি না থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Visited 5 times, 1 visit(s) today