নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোয়ও শিশুদের যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারে নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।
তিনি বলেন, মাদ্রাসাগুলোতে এসব ঘটলেও সেইসব প্রতিষ্ঠান সাধারণত চোখের আড়ালে থেকে যায়, ফলে তথ্য পাওয়া কঠিন হয়।
তিনি বলেন, অনেক মাদ্রাসায় শিশুদের নানাভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মাদ্রাসাগুলোর ওপর সরাসরি নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
এসময় তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন হয়রানির বিষয়ে অভিভাবকরা খবর রাখেন না। প্রতিষ্ঠানগুলো স্বীকার করে না, তবে ঘটনাগুলো এখন সামনে আসছে।
৩রা জুলাই বৃহষ্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দেশের মাদ্রাসায় শিশুরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়াও উপদেষ্টা আরো বলেন, বাংলাদেশে সম্প্রতি নারী ও শিশু নির্যাতন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশে এখন নারী নির্যাতন প্রায় মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “গত ৯ দিনে ২৪ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আর অস্বীকার করার উপায় নেই।”
তিনি আরও বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন চলছে। এর পেছনে রাজনীতি, মাদক, মোবাইল ফোনের অপব্যবহার ও পর্নোগ্রাফির মতো সামাজিক অবক্ষয় দায়ী। সরকার এই কারণগুলো প্রতিরোধে নতুন আইন করার পরিকল্পনা করছে। নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে নতুন আইন প্রণয়নের চিন্তা করছে সরকার।
উপদেষ্টা শারমীন আরও বলেন, একজন ষাট বছরের বৃদ্ধ যখন একজন শিশুকে ধর্ষণ করে, তখন আর সহনশীলতা দেখানো যায় না। এমন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছি যে, আমি এখন মৃত্যুদণ্ডের পক্ষেও অবস্থান নিচ্ছি যদিও আমি একজন মানবাধিকার কর্মী।
উপদেষ্টা স্বীকার করেন, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৫টি নির্যাতনের অভিযোগ জমা হয়েছে, কিন্তু মন্ত্রণালয়ের পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় সব অভিযোগের সমাধান করা সম্ভব হচ্ছেনা।
তিনি আরো বলেন, “আমরা স্বীকার করি, সরকার হিসেবে আমরা সব অভিযোগের দ্রুত সমাধান দিতে পারিনি। আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে।”
নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সারাবছর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কাজ হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ে কাজ হয় এডহক ভিত্তিতে। আমাদের কাজ হলো নারীদের নিরাপত্তা ও সহিংসতা মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যে সহিংসতা এর বিরুদ্ধে গোটা বছর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কাজ করা হবে। যে কোনো ঘটনায় কুইক রেসপন্স করার ব্যবস্থা করা হবে। দেশের কোনো জায়গায় নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কুইক রেসপন্স টিম যাবে। কর্মকর্তাদের জেলা-উপজেলায় বসে থাকলে হবে না। ইউনিয়ন ও গ্রামেও যেতে হবে।
কুমিল্লার মুরাদনগরে গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় ইউএনওকে প্রধান করে কুইক রেসপন্স টিম কাজ শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।
