১৮ জুলাই বিটিভি ভবনে আগুন-ভাঙচুর-সহিংসতা ও দখলের দায় স্বীকার আন্দোলনকারীর

১৮ জুলাই বিটিভি ভবনে আগুন-ভাঙচুর-সহিংসতা ও দখলের দায় স্বীকার আন্দোলনকারীর
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬শে জুন ২০২৫

গত বছরের ১৮ই জুলাই রামপুরায় রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রধান গেইট ভাঙা, গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং ব্রডকাস্টিংয়ের কন্ট্রোল রুম দখলের চেষ্টার এই ঘটনাগুলোর দায় স্বীকার করলেন আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেওয়া এক নাশকতাকারী।

নিজের ফেসবুক পেজে মোহাম্মদ শফিকুর রহমান নামে এই ব্যক্তি লেখেন: “১৮ জুলাই ২০২৪, সর্বপ্রথম আমি মো: শফিকুর রহমান। রামপুরা বিটিভির তিন নম্বর গেইট ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করি। ভিতরে থাকা মাইক্রোবাসে আগুন লাগায় পুড়িয়ে দেই। আমার ইচ্ছা ছিলো কন্ট্রোল রুম দখল করে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বিজয় ঘোষণা দেয়ার, যাতে পুরো জাতি সাহস পায়। আর সরকার যদি ১৮ জুলাইকে দিবস হিসেবে ঘোষণা না দেয়, তাহলে আমি আবারও বিটিভির ভবন দখল করবো ইন শা আল্লাহ।”

তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়, আগুন দেওয়া গাড়িটির নাম্বার ছিলো ১৫১৭৫৭।

এই স্বীকারোক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, “যদি এসব কাজ আগেই পরিকল্পনা করে করা হয়, তাহলে এটা তো আর কোনো সাধারণ আন্দোলন ছিল না”

গত বছরের কোটা সংস্কার আন্দোলন- যা সাধারণ ছাত্রদের দাবির ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি সরকারবিরোধী সহিংস আন্দোলনে রূপ নেয়। সরকারের পতনের পর এখন অনেকেই এ নিয়ে মুখ খুলছেন।

একজন আন্দোলনকারী জানান, “সবাই ছিলো ক্ষুব্ধ। তবে সবাই আগুন দেয়নি। কেউ কেউ ছিলো, যারা পরিস্থিতি উসকে দিয়েছে।”

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের খোলামেলা স্বীকারোক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলোর মধ্য দিয়েই বোঝা যায়, আন্দোলনের পেছনে কাদের কী ধরনের উদ্দেশ্য কাজ করেছিল।

এ বিষয়ে ইউনূস সরকার কর্তৃক চাকরিচ্যুত এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ফেসবুকে যে স্বীকার করলো, সে তো আইনের আওতায় আসতেই পারে। যদি কেউ নিজে বলে যে সে বিটিভিতে আগুন দিছে, এটা তো তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।”

তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Visited 94 times, 1 visit(s) today