আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প ধ্বংস হয়নি—বরং তা সাময়িকভাবে কয়েক মাসের জন্য পিছিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের গোয়েন্দা শাখা ‘ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি’ (ডিআইএ) পরিচালিত একটি প্রাথমিক মূল্যায়নে এ তথ্য উঠে এসেছে। সিএনএন, সিবিএস নিউজ এবং দ্য গার্ডিয়ানের খবরে উঠে এসেছে হামলার কার্যকারিতা নিয়ে পেন্টাগনের ভিন্নমত।
ডিআইএ-এর এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, হামলার টার্গেট করা তিনটি পারমাণবিক স্থাপনার মধ্যে দুটিই কার্যকরভাবে ধ্বংস করা যায়নি। এর ফলে ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পের মূল উপাদান, বিশেষ করে সেন্ট্রিফিউজগুলোর বড় একটি অংশ কয়েক মাসের মধ্যেই পুনরায় চালু করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ২১শে জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রে অত্যাধুনিক বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করে হামলা চালায়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই হামলাকে “একটি অসাধারণ সামরিক সাফল্য” বলে উল্লেখ করে দাবি করেন, “ইরানের প্রধান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।”
তবে এই দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে পেন্টাগনের এই মূল্যায়নের পর। কর্মকর্তারা জানান, হামলার আগেই ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ গোপন পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সরিয়ে নেয়, যার অবস্থান এখনও নিশ্চিত নয়।
ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউজ অবশ্য গোয়েন্দা সংস্থার এই মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এটি “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হেয় করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা।”
ট্রাম্প নিজেও তার ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, “সিএনএন ও নিউইয়র্ক টাইমস ইচ্ছাকৃতভাবে সামরিক ইতিহাসের সবচেয়ে সফল এক অভিযানের গুরুত্ব খাটো করার চেষ্টা করছে।”
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিও এক বক্তব্যে জানান, ইরানের ৬০% মাত্রায় সমৃদ্ধ করা প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের অবস্থান সম্পর্কে সংস্থাটি এখন নিশ্চিত নয়।
এই মন্তব্যও ইঙ্গিত করে, ইরান তাদের কর্মসূচির কৌশলগত অংশ সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফোরদোর মতো স্থাপনাগুলো এতটাই গভীরে নির্মিত যে প্রচলিত বোমার মাধ্যমে সেগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয়। ‘বাংকার বাস্টার’ হিসেবে পরিচিত ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের জিবিইউ-৫৭ বোমাও ভূগর্ভস্থ ওইসব স্থাপনার গভীরতম অংশে পৌঁছাতে অক্ষম।
পেন্টাগনের ডিফেন্স থ্রেট রিডাকশন এজেন্সি জানিয়েছে, “ফোরদোর মতো সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোর সম্পূর্ণ ধ্বংস নিশ্চিত করতে কেবল কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রই কার্যকর হতে পারে।”
প্রসঙ্গত, জাগরোস পর্বতমালার নিচে অবস্থিত ফোরদো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ইরানের অন্যতম নিরাপদ ও কৌশলগত স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত। প্রায় ৩০০ ফুট পাথরের নিচে নির্মিত এই কেন্দ্রটি এখনো কার্যকর রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পেন্টাগনের এই মূল্যায়ন ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনা ও ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন তিনি আবারও নির্বাচনী প্রচারে শান্তি ও নিরাপত্তার ম্যান্ডেট সামনে রেখে এগোচ্ছেন।
