কাঞ্জিলাল রয় জীবন
গতকাল ৪৫তম বিসিএসের লিখিত উত্তীর্ণ হয়েছি, অবশ্য উত্তীর্ণ না হওয়ার কোন কারণও নেই। তবে আমি ভাইভা না দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ…
কারণ আমি ৪৩তম বিসিএসের একজন ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে একদফা গেজেটেড হয়েও আবার দুই দফা গেজেট থেকে বাদ পরে আমার প্রাপ্য চাকুরি করতে পারছি না । কারণ এদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সর্বৈব মিথ্যা, বানোয়াট, তীব্র অপমানজনক গোয়েন্দা রিপোর্ট। প্রভাবশালীদের কাছ থেকে শুনছি আমি নাকি “ভারতীয় উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ও সমর্থক”! কারণ এমন সর্বৈব মিথ্যা, তীব্র মৌলবাদী মন্তব্যের জন্য এদেশের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (যার দায়িত্বে স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা) এদেশের সিভিল সার্ভিসের জন্য আমাকে ফিট মনে করে না ।
আমার নামে কোন ফৌজদারী মামলা নেই, আমি কখনোই কোন রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডে যুক্ত ছিলাম না, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে কখনোই কোন ধরণের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত ছিলাম না; এরপরও আমাকে বিসিএসের চাকুরি করতে দেওয়া যাবে না ! অদ্ভুত এক নিয়ম ! শুধু আমার মতদের জন্য!
আমাকে এদেশের মুক্ত বাতাসে নি:শ্বাস দিতে দেওয়া যাবে, আমাকে জনগণের করের টাকায় বেতন দেয় এমন একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করতে দেওয়া যাবে, আমি নিয়মিত টিএসসি’তে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আড্ডা দিতে পারব; আমি এদেশে আর সবই করতে পারব। পারব না শুধু আমার নিজের মেধা, যোগ্যতা দিয়ে পাওয়া “বিসিএস” এর চাকুরি করতে !
আমি প্রাথমিকভাবে ৪৫তম বিসিএসের ভাইভা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ….
এ আজব এক দেশ। এদেশে নিজের শৈশব-কৈশোর থেকে এই দেশ-সমাজ নিয়ে চিন্তা করা দেশপ্রেমিক এক তরুণের দেশপ্রেম, মেধা, যোগ্যতার চারআনা দাম নেই। দাম আছে শুধু হিজবুতীদের, তাদের ভাইদের আর দাম আছে সর্বৈব মিথ্যা, বানোয়াট, তীব্র অপমানজনক, মৌলবাদী গোয়েন্দা রিপোর্টের…..
মাঝে মাঝে অনিচ্ছা সত্ত্বেও মনে হয় এ বড্ড আজব এক দেশ যার নাম বাংলাদেশ , ব্রাকেটে পাকিস্তান ।
মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে চোখ বুজে থাকা, কানে কম শোনা কিছু নীতি নির্ধারকের চোখ টেনে ধরে, কানের নিচে বাজিয়ে শুনাই
“My Name is Kanjilal Roy Jibon and I’m not an Indian Agent”।
মাননীয় Chief Adviser GOB, সংস্কারের প্রশ্নে কোন দলের কী অবস্থান সেটি যেমন ওয়েব সাইটে দিয়ে দেশবাসীকে জানাতে চাচ্ছেন তেমনি আমাদের কী কারণে গেজেট থেকে বাদ দিয়ে স্বাধীন, সার্বভৌম এই রাষ্ট্রের সেবা করা সুযোগ থেকে বাদ দিচ্ছেন সেটাই এদেশের মানুষকে, এদেশের তরুণদের জানান। চুরির আসামী থেকে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামীও জানে তার কী অপরাধ, অথচ আমাদেরকে জানাচ্ছেন না আমাদের কী অপরাধ… আমাদের সাথে হওয়া অন্যায়, অবিচারের ইতি টানুন প্লিস।
Visited 16 times, 1 visit(s) today
