ইসরায়েলে হাসপাতালে ইরানের হামলার দাবির বিপরীতে গাজার হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলার চিত্র

ইসরায়েলে হাসপাতালে ইরানের হামলার দাবির বিপরীতে গাজার হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলার চিত্র
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল দাবি করেছে যে ইরান তাদের একটি হাসপাতালে মিসাইল হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক হাসপাতালের ওপর হামলা ও ধ্বংসের পরিসংখ্যান নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে ২৪টিরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এই হামলাগুলোতে শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার রোগী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গাজায় স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার ওপর প্রায় ৬০০টি হামলা রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯৪টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র (৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে ২৬টি) এবং ৭৯টি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য হাসপাতালগুলোর মধ্যে আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্স, আল-আহলি আরব হাসপাতাল, ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতাল এবং নাসের হাসপাতাল বারবার হামলার শিকার হয়েছে। আল-শিফা হাসপাতালে ইসরায়েলি বাহিনী ২০২৩ সালের নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের মার্চে অভিযান চালায়, যার ফলে হাসপাতালটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং এর প্রাঙ্গণে গণকবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েল দাবি করে যে গাজার হাসপাতালগুলো হামাস কর্তৃক সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে, তবে এই অভিযোগের সমর্থনে পর্যাপ্ত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযোগগুলো “অস্পষ্ট এবং সাধারণীকৃত” এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রকাশ্য তথ্যের সাথে সাংঘর্ষিক। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের মতো সংগঠনগুলো এই হামলাগুলোকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে, কারণ হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে বিশেষ সুরক্ষার অধিকারী।

অন্যদিকে, আজ ইসরায়েলের দাবি অনুসারে, ইরানের মিসাইল হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলের বিয়ারশেবার সোরোকা হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় হাসপাতালের দেয়াল ভেঙে পড়েছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এই ঘটনা গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতালের বিপরীতে তুলনামূলকভাবে সীমিত ক্ষয়ক্ষতি নির্দেশ করে।

গাজায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ধ্বংস গর্ভবতী নারী, শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগীদের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে এনেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোর কাছাকাছি ২০০০ পাউন্ডের বোমার ব্যবহার গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে “সম্পূর্ণ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে” ঠেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Visited 12 times, 1 visit(s) today