নিজে নিজেই ‘মেয়র’ পদে আসীন হয়ে নগরভবনে মতবিনিময় সভা করলেন তামাদি হয়ে যাওয়া ‘মেয়র’ ইশরাক হোসেন

নিজে নিজেই ‘মেয়র’ পদে আসীন হয়ে নগরভবনে মতবিনিময় সভা করলেন তামাদি হয়ে যাওয়া ‘মেয়র’ ইশরাক হোসেন
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ১৬ জুন ২০২৫: তামাদি হয়ে যাওয়া পদে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন নিজেই নিজেকে ‘মাননীয় মেয়র’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন। সোমবার (১৬ জুন ২০২৫) নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি স্ব-ঘোষিত মেয়র হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যা আইনি প্রশ্ন এবং জনসমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

মতবিনিময় সভাটি ‘পরিচ্ছন্ন ঢাকা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকল্পে’ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত হয়। সভায় উক্ত বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইশরাক হোসেনের মেয়র পদের দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব হস্তান্তর করেনি। এর ফলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। গত ১৫ মে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদের মেয়াদ তামাদি হয়ে যায়, অর্থাৎ তাঁর কার্যকাল শেষ হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় ইশরাক সমর্থিত নেতাকর্মীরা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগের দাবিতে টানা আন্দোলন করছেন। যদিও আসিফ মাহমুদের পদত্যাগের দাবি উঠলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গেছে। ইশরাক হোসেনের অধিকার ও দাবিকে উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় নেতাদের এই সমঝোতা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা ভালোভাবে গ্রহণ করেননি।

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান করে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন নিজেকে ‘মাননীয় মেয়র’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেন, যা আদালতের নির্দেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হচ্ছে।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করে রায় দেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এই ঘটনায় সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করছেন, আবার কেউ কেউ ইশরাক হোসেনের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।

Visited 2 times, 1 visit(s) today