চীনের সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের নিষ্পত্তি, নতুন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা

চীনের সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের নিষ্পত্তি, নতুন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ওয়াশিংটন/লন্ডন, ১৩ জুন ২০২৫: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, চীনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে চলমান শুল্ক যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তি গত মঙ্গলবার ও বুধবার লন্ডনে দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে দুদিনব্যাপী ম্যারাথন আলোচনার পর সম্পন্ন হয়, যা মূলত গত মে মাসে জেনেভায় পৌঁছানো একটি অস্থায়ী শুল্ক স্থগিতাদেশের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেছেন,

“চীনের সাথে আমাদের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, তবে এটি আমার এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা চীনের পণ্যের উপর মোট ৫৫% শুল্ক পাচ্ছি, আর চীন আমাদের পণ্যের উপর ১০% শুল্ক পাচ্ছে। আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার!”

এই চুক্তির মাধ্যমে চীনের বিরল মাটির খনিজ (রেয়ার আর্থ মিনারেল) এবং চৌম্বক পদার্থের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে, যা মার্কিন গাড়ি শিল্প এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত এপ্রিলে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণার পর চীন এই খনিজগুলির রপ্তানির উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল, যা মার্কিন কোম্পানিগুলোর সাপ্লাই চেইনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।

মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক জানিয়েছেন, এই “ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি” চীনের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার সমাধান করবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও তার পক্ষ থেকে সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য প্রযুক্তি পণ্যের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে। তিনি বলেন, “এটি একটি সুষম পদক্ষেপ, যেমনটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন।”

তবে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চুক্তি মূলত গত এপ্রিলের পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার একটি প্রচেষ্টা, যখন ট্রাম্প চীনের পণ্যের উপর ১৪৫% শুল্ক আরোপ করেছিলেন, এবং চীন পাল্টা ১২৫% শুল্ক আরোপ করেছিল। মে মাসে জেনেভায় একটি ৯০ দিনের স্থগিতাদেশ ঘোষণার পর উভয় পক্ষ শুল্ক হ্রাস করে যথাক্রমে ৩০% এবং ১০%-এ নামিয়ে আনে। বর্তমান চুক্তিতে মার্কিন শুল্ক ৫৫%-এ উন্নীত হলেও, এটি পূর্বের তুলনায় কম এবং বাণিজ্য সম্পর্কের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, উভয় পক্ষকে তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে এবং “একই দিকে এগিয়ে যাওয়ার” জন্য কাজ করতে হবে। তবে, চীন এখনও চুক্তির বিস্তারিত বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

এই চুক্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনা শিক্ষার্থীদের মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা সম্প্রতি বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছিল। ট্রাম্প বলেছেন, “এটি সবসময় আমার জন্য ঠিক ছিল।”

যদিও এই চুক্তি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনেছে, তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শুল্ক এখনও ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ এবং এটি মার্কিন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপিয়ে দিতে পারে। লজিস্টিকস ও খুচরা শিল্পের নির্বাহীরা বলছেন, সাপ্লাই চেইনের ক্ষতি এখনও অব্যাহত থাকবে।
এই চুক্তি আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে, যখন অস্থায়ী শুল্ক স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হবে। ট্রাম্প ও শি জিনপিং-এর স্বাক্ষরের পর এটি কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Visited 4 times, 1 visit(s) today