নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজনৈতিক দল ও জনগণকে অবহিত না করেই উপদেষ্টা পরিষদ যেসব সংস্কারকে ‘আশু বাস্তবায়নযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করেছিল, সেই ১২১টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি হয়নি আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও। ৫টি পৃথক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ থেকে বাছাইকৃত এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলেও, পরবর্তীতে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার।
উপদেষ্টা পরিষদ একদিকে করিডোর ও বিদেশি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ব্যস্ত, অন্যদিকে বিরোধীদল দমনে এবং মৌলবাদী গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে কিছু বিতর্কিত সংস্কার দ্রুত কার্যকর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন, বিচারক নিয়োগে নতুন অধ্যাদেশ, পাসপোর্টে পুলিশ ভেরিফিকেশন বাতিল এবং এনবিআর ভেঙে দুটি বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত।
সংস্কার ও নির্বাচন বিষয়ে সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর চলমান সংলাপে ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’-এর আওতায় ৩৩টি দলের সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের আলোচনায় বেশ কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের সংলাপ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র জানায়, ইউনূস সরকার একতরফাভাবে ১২১টি সংস্কার বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেও, বাস্তবায়ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। সর্বশেষ ২২শে মে উপদেষ্টা পরিষদ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে— প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নযোগ্য কি না, সম্ভাব্য সময়সীমা ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে মতামত নিতে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে তা পুনরায় উপস্থাপন করতে হবে উপদেষ্টা পরিষদে।
প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই ধাপে মতামত গ্রহণেই কয়েক মাস লেগে যেতে পারে, কারণ অধিকাংশ প্রস্তাব আইন, বিধি ও প্রশাসনিক কাঠামো সংশোধনের সঙ্গে জড়িত।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ জানান, “এখন সমন্বয়ের কাজ শুরু হয়েছে, তবে এটি কবে শেষ হবে তা বলা যাচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, “যেসব সংস্কার রাজনৈতিক মতামত ছাড়া বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ, বিচার বিভাগ, দুদক ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব থেকে বাছাইকৃত এই ১২১টি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে: নির্বাচন ব্যবস্থার ৯টি, বিচার বিভাগের ৩৮, দুদকের ৪৩, পুলিশের ১৩ এবং জনপ্রশাসনের ১৮টি প্রস্তাব।
এসব প্রস্তাব ১৩ই মার্চ আইন উপদেষ্টার মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয় এবং ৩০শে এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ২১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছ থেকে মতামত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার জানান, “আমরা আরপিওসহ বিভিন্ন অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তুত করেছি, যা অবিলম্বে বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল।” দেরিতে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, “বিলম্ব হলে অন্যান্য সংস্কার কার্যক্রমও ঝুলে যেতে পারে।”
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে এনবিআর বিভাজন নিয়ে এখনো জটিলতা রয়ে গেছে, যদিও সরকার এর আগেই চারটি সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে।
