নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে উৎপাদন খাতে (ম্যানুফ্যাকচারিং) কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য আশঙ্কাজনক। ২০১৭ থেকে ২০২২ সময়কালে এ খাতে বার্ষিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ছিল ঋণাত্মক (-২.২ শতাংশ)। অথচ ২০১০ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত এই হার ছিল ৪.২ শতাংশ।
২৯শে মে, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (বিআইডিএস) আয়োজিত ‘শিল্পায়ন ও রপ্তানিভিত্তিক পোশাকশিল্প’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ এই তথ্য তুলে ধরেন বইয়ের লেখক ও বিআইডিএস-এর সিনিয়র ফেলো ড. রুশিদান ইসলাম রহমান।
তিনি জানান, পোশাক খাত দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি শিল্প হলেও এখানে নারী শ্রমিকের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। বিশেষ করে বিবাহিত নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, যা শিল্পের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হারও একইভাবে কমছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৯ থেকে ২০০১-০২ সময়ে যেখানে বার্ষিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ছিল ৩.৮৫ শতাংশ, তা ২০১১ থেকে ২০১৮ সময়ে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.২৩ শতাংশে।
ড. রুশিদান জানান, করোনা মহামারি এ খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। অনেক শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন, বহু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে প্রকৃত মজুরি না বাড়া ও বৈষম্য বৃদ্ধিও কর্মসংস্থান কমার অন্যতম কারণ। সম্প্রতি সরকারের চাপে গার্মেন্ট বন্ধ হওয়াও অন্যতম কারণ।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন বলেন, এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে পোশাক খাতে বিদেশি বাণিজ্যিক সুবিধা কমে যেতে পারে—এ নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সাম্প্রতিককালে এ অস্থিরতা আরো বেড়েছে।
এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। এলডিসি গ্রাজুয়েশন প্রক্রিয়ায় পোশাক শিল্পে যেন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে লক্ষ্যে তিনটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর একটি কমিটি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় নিয়োজিত, যারা ইতোমধ্যেই জাপানের সঙ্গে বৈঠক করেছে।
তিনি আরও বলেন, “পোশাক শিল্পের ওপর অতিনির্ভরশীলতা আমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এতদিনেও বিকল্প শিল্প গড়ে উঠতে না পারাটা দুঃখজনক। এখনই নতুন শিল্পায়নের দিকনির্দেশনা ঠিক করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার, বিআইডিএস-এর রিসার্চ ফেলো সিবান শাহানা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রুবাইয়া মোরশেদ।
