মব সন্ত্রাসীদের ছাড়ানো ভুল, তবে সংশ্লিষ্টতা না থাকার দাবি মাসউদের

মব সন্ত্রাসীদের ছাড়ানো ভুল, তবে সংশ্লিষ্টতা না থাকার দাবি মাসউদের
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলনের কর্মীদের বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় আটক তিনজনকে নিজ জিম্মায় ছাড়িয়ে এনে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ।

এই পদক্ষেপকে ‘ভুল’ হিসেবে স্বীকার করেছেন মাসউদ নিজেই। তবে তিনি দাবি করেছেন, আটক তিনজনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ঘটনার ৮ দিন পর এনসিপির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাসউদ তার “রাজনৈতিক ভুল” স্বীকার করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এরপর দলের রাজনৈতিক পর্ষদ তার বিরুদ্ধে জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহার করেছে।

গত ১৯শে মে রাতে ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কের একটি বাসায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক অসংখ্য গ্রন্থের প্রকাশক হাক্কানি প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারি গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে সরাসরি ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ বলে হেনস্তা চালান আন্দোলনের কয়েকজন কর্মী। তারা ওই বাসার সামনে অবস্থান নেন, পোস্টার লাগান এবং স্লোগান দেন।

প্রকাশকের পরিবারের অভিযোগ, এই কর্মীরা জোর করে বাসায় ঢোকার চেষ্টা করেন এবং বাসার সামনে ‘গ্রেপ্তার করো’, ‘গোলাম মোস্তফা গণশত্রু’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং তিনজনকে আটক করে থানায় নেয়।

ধানমন্ডি থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা বলেন, ওই রাতে পুলিশের উপস্থিতি না থাকলে “বড় কিছু ঘটে যেতে পারত।”

তিনি আরও জানান, আটক তিনজনের মধ্যে একজন নারী কর্মী ছিলেন, যিনি গোলাম মোস্তফার স্ত্রীকে “শারীরিকভাবে ধাক্কা দেন”—এমন অভিযোগও এসেছে।

আটকের পরদিনই মাসউদ থানায় গিয়ে ওই তিনজনকে নিজের জিম্মায় ছাড়িয়ে আনেন। তখন তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, আমরা সমাধান করতে এসেছি।” এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১শে মে মাসউদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে এনসিপি। তাতে বলা হয়, তিনি সংগঠনের নীতি পরিপন্থীভাবে এমন তিন কর্মীকে ছাড়িয়ে এনেছেন, যাদের মধ্যে একজন আগেই সংগঠন থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন।

মাসউদ তখন দাবি করেন, তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারের অনুরোধে থানায় গিয়েছিলেন। তবে ধানমন্ডি থানার ওসি জানান, “কমিশনার স্যার অনুরোধ করেছেন কি না, সেটা আমি জানি না।”

তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকেই রাজনৈতিক নেতাদের বলা হয়েছিল যেন থানায় বিশৃঙ্খলা না হয়।

এই ঘটনায় মাসউদের ভূমিকা নিয়ে এনসিপির ভিতরে বিভক্তি তৈরি হয়। অনেকে মনে করেন, মাসউদ রাজনৈতিকভাবে অপরিণামদর্শিতা করেছেন। আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে “জেনুইন ভুল” হিসেবে দেখার পক্ষে মত দেন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দেশের রাজনীতিতে মব সন্ত্রাসের প্রবণতা বেড়েছে। বিরোধী মত দমনে রাস্তায় স্লোগান, ঘেরাও কিংবা হুমকি দেওয়া—এমন ঘটনা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মাসউদের এই ভূমিকা বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

যদিও এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়, মাসউদের ভুল স্বীকার করাকে তারা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

Visited 36 times, 1 visit(s) today