মতামত || তোয়াব ভাই, তোয়াব ভাই, চাঁন-তারা পতাকা চাই

মতামত || তোয়াব ভাই, তোয়াব ভাই, চাঁন-তারা পতাকা চাই
শেয়ার করুন

শাশ্বতী বিপ্লব

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আমার শুধু অতীত বুঝতে ইচ্ছা করে। খালি মনে হয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অসম্পূর্ণ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অসম্পূর্ণ । মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাঁথা যেমন যথেষ্ট লিপিবদ্ধ হয় নাই, ঠিক তেমনি যথেষ্ট লিপিবদ্ধ হয় নাই বেইমানদের ইতিহাস। লিপিবদ্ধ হয় নাই সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্ব ।

অনেক প্রশ্ন যেগুলোর কোন উত্তর আমার জানা নাই। কে দিতে পারবে জানিনা। এসব প্রশ্ন তোলা সমীচীন কিনা তাও জানিনা। তবু স্বাধীনতার পর থেকে আজ অবধি বাংলাদেশের পরিনতি দেখে এসব প্রশ্ন আটকাতে পারি না।

১৯৭১ এর ৭ কোটি মানুষের সবাই কি বাংলাদেশ চেয়েছিলো? আমরা জানি, ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পূর্ব পাকিস্তানে মাত্র দুটি আসনে হেরেছিলো। কিন্তু সেটা কি আমাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনসমর্থনের যথেষ্ট তথ‍্য দেয়?

আমার ধারণা (আমি ভুলও হতে পারি), মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজাকারদের মাঝামাঝি একটা অংশ ছিলো যারা ঠিক পাকিস্তানের পক্ষে ছিলো না, আবার বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষেও না। এরা হাওয়া বুঝে পাল তোলা জনগন। এরা সংখ্যায় কতোজন ছিলো?

মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি যোগ না দেয়া অনেকে যেমন গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করতো, তেমনি সরাসরি রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীতে যোগ না দেয়া অনেকে কি এদেরও সহায়তা করতো না?

আবার, যে ৩০ লক্ষ মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর হত‍্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলো, তারা কি সবাই বাংলাদেশ চেয়েছিলো? আমি জানিনা। নানাজনের সাথে আলাপ করে বুঝি, সবাই দেশের স্বার্থের কথা ভাবে না। দেশের জন‍্য মরতে চাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে শুধু নিজে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালো থাকতে পারলেই খুশী। আমি তাতে দোষ দেখি, এমন না। কিন্তু এই জনগোষ্ঠী এখন যেমন আছে, একাত্তরেও নিশ্চয়ই ছিলো।

যাইহোক, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত কিংবা সংবিধান বদলানোর প্রস্তাব দেখে যারা অবাক হই, তারা অনেকেই জানিনা, এর আগেও ১৯৭৬ সালের ৭ই মার্চ, স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র সাড়ে ৪ বছরের মাথায় এই দাবী উঠেছিল ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে । তখন জিয়াউর রহমানের শাসনামল।

৭ই মার্চ ১৯৭৬ সালে রেসকোর্স ময়দানে বিশাল ইসলামী জলসার আয়োজন করা হয়। সিরাত মাহফিল নামে এই জলসায় সভাপতিত্ব করে জামায়াতে ইসলামীর দেলোয়ার হোসেন সাঈদী এবং ৬ দফা দাবী তোলেন।

১. দেশের নাম হতে হবে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশ
২. জাতীয় পতাকা বদলাতে হবে
৩. জাতীয় সঙ্গীত বদলাতে হবে
৪. শহীদ মিনার ধ্বংস করতে হবে
৫. সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে
৬. ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উপর নিষেধাজ্ঞা এবং ইসলামিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে

বিশেষ অতিথি ছিলো তৎকালীন উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও বিমান বাহিনীর প্রধান এম জি তোয়াব। দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর এই ৬ দফা দাবীর সমর্থনে এম জি তোয়াব বক্তৃতাকালে সমাবেশ থেকে শ্লোগান ওঠে,

“তোয়াব ভাই, তোয়াব ভাই
চাঁন-তারা পতাকা চাই।”

এইসব দাবীতে সেইসময়ও অনেকে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন নিশ্চয়ই। কিন্তু জোর প্রতিবাদ হয়েছিলো এমনটা পেলাম না কোথাও।

Visited 254 times, 1 visit(s) today