ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে বেহাল দশা, তাতে দেশে এখন মৃতদেহও রেহাই পাচ্ছে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ও নজিরবিহীন ঘটনা—লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ডাকাতি, যাত্রীদের মারধর, এমনকি মরদেহের ওপর হামলা!
ঘটনাটি ঘটে ২২শে মে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে, উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের তিলপাড়া এলাকায়। ঢাকা থেকে ক্যান্সারে মারা যাওয়া ছবদর আলীর মরদেহ নিয়ে গ্রামের পথে ফিরছিল স্বজনরা। পথে ডাকাতরা সড়কে গাছ ফেলে অ্যাম্বুলেন্সের গতি রোধ করে। দেশি অস্ত্র হাতে গাড়ি ভাঙচুর করে এবং মৃত ব্যক্তির পাশে থাকা নারীসহ ৯ জন স্বজনকে পিটিয়ে আহত করে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- চালক ফিরুজ মিয়া (৪৫), মালিক খলিল মিয়া (৪৮), মৃতের ছেলে আলমগীর মিয়া (৪৫), রাসেল মিয়া (৩০), ছালেক মিয়া (৫০), নাহিদ মিয়া (৩৩), সালাউদ্দিন (৩০), আলেয়া বেগম (৫০) ও আলী নেওয়াজ মিয়া (৪৯)।
ভুক্তভোগীরা জানান, অ্যাম্বুলেন্স থেকে ১০টি মোবাইল ফোন ও অর্ধ লক্ষাধিক টাকা লুট করে নেয় ডাকাত দল। তবে সবচেয়ে মর্মান্তিক হলো—ডাকাতদের হামলার হাত থেকে মরদেহটিও রেহাই পায়নি।
নিহতের ছেলে ও পূর্বভাগ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলমগীর মিয়া বলেন, “টাকাপয়সা ও মোবাইল লুট করে নিছে, এতে কোনো দুঃখ নাই। কিন্তু আমার মৃত বাবার লাশের ওপর হামলা করেছে ডাকাতেরা, এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। মৃতদেহও নিরাপদ না দেশে।”
তিনি আরও বলেন, “টাকা-পয়সা নিছে সেটা এতোটা কষ্টদায়ক না। কিন্তু আমার বাবা একটি মৃত লাশ। তার ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। বাবার লাশ দাফন করে আইনগত পদক্ষেপের দিকে অগ্রসর হব।”
এ বিষয়ে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খায়রুল আলম বলেন, “এ এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ। এর আগেও একাধিকবার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই বর্বর ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছে—এখন মৃতদেহের নিরাপত্তাও যদি না থাকে, তবে নিরাপদ কে?
