বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছি: শেহবাজ

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছি: শেহবাজ
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের মনে জমে ছিল পরাজয়ের বেদনা। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ভারতীয় সহযোগিতায় নাস্তানাবুদ হওয়ার ঘটনা যেন কিছুতেই ভুলতে পারছিল না পাকিস্তান। সেই ক্ষত কিছুটা হলেও কমে এসেছে কাশ্মীর যুদ্ধে ভারতের ‘পরাজয়ের’ মাধ্যমে। এমনটাই দাবি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের।

বুধবার পাকিস্তানের শিয়ালকোটের পাসরুর সেনানিবাস পরিদর্শন করতে গিয়ে শেহবাজ বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে চালানো সাম্প্রতিক বুনইয়ানুম মারসুস অভিযানের মাধ্যমে আমরা ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারতের হাতে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছি।

ঔপনিবেসিক শাসনামলে ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা হওয়া পূর্ব পাকিস্তানের শাসনভার পেয়েছিল পাকিস্তান। তবে ভাষার দিকে দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ভারতীয় সংস্কৃতির সাথে মিল থাকায় এবং পাকিস্তানিদের নির্মম শোষণ-নিপীড়নে নিষ্পেষিত হয়ে মুক্তির পথ খোঁজে বাংলাদেশ। শুরু হয় যুদ্ধ। শেষদিকে ভারত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে সেই যুদ্ধে।

মূলত দেশভাগের পর থেকেই ভারত-পাকিস্তানের এই রেষারেষি। ধর্মভিত্তিক আদিম শত্রুতা তো রয়েছেই। যে শত্রুতার রেশ দেখা যায় দেশ দুটির প্রতিটি ক্ষেত্রে। সবশেষ কাশ্মীর ইস্যুও সেই পুরোনো রূপেই আবির্ভূত হয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে চলানো অন্তিম অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল বুনিয়ানুম মারসুস, যার অনুপ্রেরণার উৎস ধর্ম।

পাসরুর সেনানিবাসে এই অভিযার পরিচরনাকরীদের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ দেখা করে বলেন, অভিযানটি ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। পাকিস্তানের সেনারা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের অপ্ররোচিত আগ্রাসনের ‘জবাব’ দিয়েছে। এসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও বেশ সমালোচনা করেন শেহবাজ।

শেহবাজ বলেন, বিশ্ব জানে ১৯৭১ সালে কে বাংলাদেশি মুক্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। এখন সেই একই শক্তি বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীদের সমর্থন দিচ্ছে। মোদির উদ্দেশে বলেন, আপনার উস্কানিমূলক বক্তব্য আপনার কাছেই রাখুন। পাকিস্তান শান্তি চায়, তবে এই শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবেন।

Visited 220 times, 1 visit(s) today